ads

শনিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২২ | ২৯ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে : ময়মনসিংহে মির্জা ফখরুল

আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যথা হলে বিষয়টি রাজপথেই ফয়সালা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। এ সময় মির্জা ফখরুল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন। ময়মনসিংহ শহরের পলিটেকনিক মাঠে শনিবার বিকেলে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

Shamol Bangla Ads

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘কথায় কথায় হুংকার দেবে, কথায় কথায় ভয় দেখাবে, তোমাদের হুংকারে বাংলাদেশের মানুষ এখন আর ভয় পায় না। বাংলাদেশের মানুষ এখন জেগে উঠেছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত যে উত্তাল তরঙ্গ দেখা যাচ্ছে এতে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে। ’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দুইটা জিনিস আওয়ামী লীগের বডি কেমিস্ট্রিতে আছে। ওখান থেকে তারা বের হতে পারে না। একটা হচ্ছে চুরি, আরেকটা হচ্ছে সন্ত্রাস। দেখবেন, তারা কথায় কথায় লাঠি নিয়ে আসবে, ভয় দেখাবে। ’
বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর থেকে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের ওপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহার করে দেশে আসার সুযোগ দিতে হবে। ’

Shamol Bangla Ads

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকার, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, পুলিশের গুলিতে নেতাকর্মী হত্যা, হামলা এবং মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিএনপির সমাবেশে সভাপতিত করেন ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুটু, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির আব্দুস সালাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপির ফজলুর রহমান, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্ট্রার কায়সার কামাল, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ারেস আলী মামুন, সহ-সাংগঠনিক শরিফুল আলম, কেন্দ্রীয় মহিলা বিএনপির সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন, শেরপুর বিএনপির সভাপতি আহবায়ক মাহমুদুল হক রুবেল, সাবেক যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক এনায়েতুল্লাহ বেলাল, নেত্রকোণা জেলা বিএনপির আহবায়ক আনোয়ারুল হক প্রমুখ। বিএনপি মহাসচিব বলেন, তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি বিদেশে বহুল মানুষ পাঠিয়েছিলেন তাতে দেশে রেমিটেন্স আসছে। আর সেই রেমিটেন্সের টাকা মেরে খাচ্ছে আওয়ামীগের নেতারা।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম স্যোশাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট করেছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল কনট্যান্ট ট্র্যাক করে যে কাউকে জেলে নিতে পারবে এবং ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবে। ফেসবুকে শেখ হাসিনাকে সমালোচনা করার জন্য এই আইনের আওতায় রাজবাড়ীর একজন মহিলাকে গভীর রাতে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন ‘উনি কি বিধাতা ও উনি ঈশ্বর যে উনার বিরুদ্ধে কি কোনো সমালোচনা করা যাবে না ?’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, চাল-ডালসহ দ্রব্যমূরে‌্যর উর্ধ্বগেিত মানুষ কষ্ট করছে । ১০টাকার চাল এখন ৯০ টাকা, বিনা পয়সার সার এখন পাচ্ছে না। ঘরে ঘরে বিনা পয়সায় চাকরি দেয়ার নামে এখন ২০ লাখ টায় চাকরি দিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও হরণ করেছে। সারাদেশে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। কথায় কথায় হুমকী-ধমকী এবং জেলে দেয়ার হুমকী দিচ্ছে। গত ১৫ বছরে এই আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ও অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি করেছে ভোটদানের অধিকারকে। তা আবারও প্রমাণিত হলো গাইবান্ধার উপ-নির্বাচনে। আমরা বার বার বলেছি আওয়ামী লীগের দলীয় সরকার আমলে কোনো দিন কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই পরিষ্কার করে বলছি এই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে সেই সরকারের অধীনে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে যে পার্লামেন্ট তৈরি হবে তা হবে জনগণের সরকার।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি জগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে অবশ্যই সবার আগে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করবো এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো। যুবদের চাকরির ব্যবস্থা করবো। জিনিষপত্রের ও জ্বালানী তেলে দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করা করবে। দেশে গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি মহাসচিব।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের আব্দুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর দীর্ঘকাল ধরে কারাগারে বন্দি আছেন তাদের সহ সব বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।
আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে বিদায় করার কথা উল্লেখ করে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন চট্রগ্রাম ও ময়মনসিংহের বিশাল সমাবেশ প্রমাণ করেছে যে এই সরকারকে ক্ষমতায় রেখে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। সংসদ ভেঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করলে সেই সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে।
মির্জা আব্বাস আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ২০২৩ সালে দুর্বিক্ষ দেখা দিবে। কিন্তু কি কারণে দুর্বিক্ষ হবে তা প্রধানমনত্রী বলেননি। আওয়ামী লীগের নেতারা লুটপাট করে দেশ থেকে টাকা পাচার দেশতে দেওলিয়ায় পরিণত করেছে। তাই খাদ্য কেনার টাকা নেই । কুইক রেন্টালে বেশীদামে বিদ্যুৎ কিনেও বিদ্যৎ সংকট প্রকট আকার দেখা দিয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিএনপির সৃৃষ্টি হয়েছে কিন্তু আওয়ামী লীগ এ দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে দেশের শ্রমজীবী ও গরীব ও অসহায় ভীষণ কষ্ট করে দিনাপাত করছে। দেশে শিক্ষা ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষিত বেকারে দেশ ছেয়ে গেছে। দেশের চাকরি নেই। সর্বত্র চলছে হাহাকার। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আগামীতে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসাতে হবে।
মহিলা বিএনপির সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন আওয়ামী লীগ হলো বড় দুর্বিক্ষ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে চলে গেলে দেশ থেকে দুর্বিক্ষ চলে যাবে। বড় সংঘাত না হলেও বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ হওয়ায় সড়কপথে ময়মনসিংহ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। সার্কিট হাউস ময়দান না পেলেও নগরীর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, অবশেষে পলিটেকনিক মাঠে অনুমতি দিয়েছে। কর্দমাক্ত মাঠটি সংস্কার ও গণপরিবহন সচল রাখতে প্রশাসনকে অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমরান সালেহ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ শহরজুড়ে মহড়া দিয়ে উস্কানি দেয়। প্রশাসন লাঠি ও বাঁশ আনতে নিষেধ করেছে। কিন্তু বিএনপি কর্মীদের নিরাপত্তা কে দেবে?’ শুক্রবার রাতেই দেখা গেছে, সমাবেশস্থলে লাঠি নিয়েই জমায়েত হয়েছে বিএনপি কর্মীরা।

জেলা মোটর মালিক সমিতির মহাসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, নিরাপত্তার শঙ্কায় গণপরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। শনিবার ময়মনসিংহে বাস, ট্রাক অটোরিকশা- কিছুই চলেনি। এদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে ময়মনসিংহের প্রবেশ পথগুলোতে পুলিশি ও আওয়ামী লীগে নেতাদের বাধার অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন- গণপরিহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত কিংবা বিকল্প উপায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা শহরে প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দিচ্ছেন। অনেককেই ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে দূরদূরান্ত থেকে হেঁটে আসছেন, কেউ ভেঙে ভেঙে আসছেন, শহরের প্রবেশমুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নানা অজুহাত দিয়ে ও পথ পরিবর্তন করে সমাবেশস্থলে পৌঁছাচ্ছেন।
সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ময়মনসিংহে এসেছে। রাতে মঞ্চ তৈরির সময় কয়েক হাজার নেতাকর্মী ছিল পলিটেকনিক মাঠে। বাস বন্ধ হওয়ায় ট্রেন ও নদীপথে অনেকে সম্মেলনে যোগ দেন।
সমাবেশস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে শনিবার দিনভর অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, সহ-সভাপতি মোঃ আমিনুল হক শামীমসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেন। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আমিনুল হক শামীম বলেন, শনিবার মিছিল, সভা করেনি আওয়ামী লীগ। নৈরাজ্য হলে প্রতিবাদ করার জন্য মোড়ে মোড়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান জানিয়েছেন, বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দিতে দলীয় নির্দেশ নেই। নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিএনপি জনগণ ও পুলিশের ওপর হামলা করলে প্রতিহত করা হবে। এদিকে শহরের বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা ও ময়মনসিংহগামী বাস না চলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তাঁরা বাড়তি ভাড়ায় সিএনজি অটোরিকশায় গন্তব্যে যাচ্ছেন।

Need Ads