ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ১০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫টি। ২০২৪ সালে ছিল মাত্র চারটি। দুই বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। ৩১ অক্টোবর শনিবার বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ৭৩ হাজার ৪২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন। পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৮৪। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ কমেছে ৫৪৭টি।
গত চার বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৭৩ দশমিক ২২ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর ২০২৫ সালে পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশে। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

বোর্ডের অধীন ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বছর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। শূন্য পাসের ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ময়মনসিংহের সাতটি প্রতিষ্ঠানের ৪৩ জন, নেত্রকোণার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৩৩ জন, জামালপুরের চারটি প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠানের আটজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের কেউই পাস করতে পারেননি।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিলেন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার এইচএ ডিজিটাল কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির ২৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার অ্যাম্বিশন মডেল কলেজের ১৬ জন এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালচর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাতজনও পাস করতে পারেননি।
এছাড়া জামালপুরের শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা হাকিম গার্লস স্কুলের ছয়জন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কোনাপাড়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ছয়জন এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার মন্মথ দে কলেজের সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫টি। ২০২৪ সালে ছিল চারটি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ময়মনসিংহ সিটি কলেজ এবং জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। পরে আইনগত দিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শূন্য পাসের অনেক প্রতিষ্ঠান সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকায় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম। এ সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখেই শিক্ষার মান উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, বিগত সরকারের সময় পড়াশোনা না করেও ভালো ফল করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যারা পাস করেছেন, তাদের অভিনন্দন জানাই। আর যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে ফলাফলের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজন এবং ফলাফল প্রকাশে বিভাগীয় প্রশাসন, চার জেলার জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করেছে। পাশাপাশি বোর্ডের পরীক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিশ্রমে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হয়েছে।




