শনাক্তের দু’দিনেও লাশ ফিরে পায়নি পরিবার
জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইনের পাশ থেকে শান্ত চক্রবর্তী (৪৫) নামে শেরপুরের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার এবং বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের পর ছবি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে তাকে শনাক্ত করার দু’দিন পরও পরিবার ফিরে পায়নি তার লাশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জামালপুরে আইনগত সব কার্যক্রম শেষ হলেও রাত হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় পৌর কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। শান্ত চক্রবর্তী শেরপুর শহরের গৃর্দানারায়ণপুর মহল্লার প্রয়াত সমর চক্রবর্তীর ছেলে ও এক সন্তানের জনক। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে শেরপুর ও জামালপুরে ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

পরিবারিক সূত্র জানায়, শান্ত চক্রবর্তী দীর্ঘ প্রায় ১০/১২ বছর যাবত জামালপুর শহরের রেলগেইট এলাকাস্থ লিলি মটরস শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করতেন। প্রায় ৬ মাস আগে রেলওয়ের কাজে ওই শোরুমের জায়গা সরকারিভাবে অধিগ্রহণ হওয়ায় শোরুমটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিজ বাড়িতেই বসবাস ও অনেকটা হতাশ হয়ে জীবনযাপন করছিল। ওই অবস্থায় ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হলেও রাতে আর ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজির পরও হদিস না পাওয়ায় পরদিন বুধবার সকালে শান্তর নিখোঁজের বিষয়ে স্ত্রী রূপা চক্রবর্তী একমাত্র ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী স্বরূপ চক্রবর্তীকে নিয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। এরপর বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে তার পরিবার খবর পায় জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে গেঞ্জী ও প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয়েছে। ফলে স্ত্রী ও সন্তানসহ স্বজনরা জামালপুরে ছুটে গিয়ে রেলওয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া লাশের ছবি দেখে তা শান্ত চক্রবর্তীর বলে শনাক্ত করেন। কিন্তু ততক্ষণে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে তার লাশটি স্থানীয় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর এবং তাদের মাধ্যমে তা স্থানীয় পৌর কবরস্থানে দাফনের কাজটি শেষ হয়। ওইসময় জিআরপি পুলিশ শান্তর স্বজনদের জানায়, বুধবার ভোর ৪টার দিকে মাথায় রক্তাক্ত অচেতন অবস্থায় তাকে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফরমের ৩শ গজ পূর্বদিকের রেললাইনের পাশে পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকাল ৭টার দিকে মারা যায়।
এদিকে বুধবার রাত ১১টা অবধি অপেক্ষার পর স্থানীয় রেলওয়ে পুলিশের এসআই কাউছারের কাছ থেকে ওই লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তসহ দাফনের কাগজপত্র সংগ্রহ করে পরিবারের লোকজন ভগ্নহৃদয়ে এলাকায় ফিরে এবং শেরপুর থানা পুলিশকে ওই কাগজপত্র হস্তান্তর করে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে জামালপুরে দৌড়ায় পরিবার। অবশেষে শান্ত চক্রবর্তীর পুত্র স্বরূপ চক্রবর্তীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যায় জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার লাশ উত্তোলন করে সৎকারের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেন।

শান্ত চক্রবর্তীর ছেলে স্বরূপ চক্রবর্তী অভিযোগ করে শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে বলেন, রেললাইনের পাশে তার বাবার মৃত্যুটি রহস্যজনক। ট্রেনের সাথে ধাক্কায় তিনি মাথায় আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন- জিআরপি পুলিশ এমন দাবি করলেও স্থানীয়রা তা কেউ বলতে পারছেন না। এছাড়া লাশটি শনাক্তের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়ে এবং তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিয়ে বেওয়ারিশ হিসেবে সনাতন ধর্মের একজনের লাশ একটি মুসলিম সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি ও তার চাচা রাজু ও রতন চক্রবর্তী।
ঘটনার বিষয়ে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশের এসআই সোহেল রানা শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে বলেন, অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু মৃত্যুর পরও তার শনাক্ত নিশ্চিত না হওয়ায় প্রয়োজনীয় কার্যাদি সেরে মুসলিম ভেবে দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে হস্তান্তর করা হয়। তার মতে, ঢাকাগামী কোন ট্রেনের ধাক্কায় তিনি আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন- প্রাথমিকভাবে এমনটিই মনে করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে বলেন, মৃত ব্যক্তির ছেলের আবেদনের প্রেক্ষিতে আরিফুর রহমান নামে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লাশ উত্তোলন সাপেক্ষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সে কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে শুক্রবার সকালেই তা করতে হবে।




