শেরপুরের নকলায় গরু চুরি রোধে করণীয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের মিয়া। ১৮ ডিসেম্বর সোমবার রাতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অফিসকক্ষে ওই সভা হয়।

সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, গরু চুরি রোধে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উঠান বৈঠকের পাশাপাশি উপজেলার ৯টি পয়েন্টে এক মাস ধরে রাতের বেলা পাহারার জন্য চৌকিদার নিয়োগ করা হয়েছে। বাজারে বাজারে গিয়ে খামার ও গরুর মালিকদের গোয়ালঘরে রাত্রিযাপন কিংবা বসতঘরের সাথে গোয়ালঘর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামার মালিকদের তালিকা তৈরি করে তাদের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খামার মালিকদের খামারে ও কৃষকের গোয়ালঘরে এলার্ম তালা, সিসি ক্যামেরা লাগানোর পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি রাতের বেলা টহল পুলিশের কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি শীত মওসুমে খামার মালিক ও কৃষক যেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতেরবেলা পালাক্রমে খামার ও গোয়ালঘর পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা নেয় সে বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে সম্পৃক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এসআই সুমন আহমেদ, ইত্তেফাক প্রতিনিধি হযরত আলী, তথ্যধারা প্রতিনিধি হারুনূর রশীদ, জাহান প্রতিনিধি ফুয়াদ হোসেন, আজকের পত্রিকা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর হোসেন, যায়যায়দিন প্রতিনিধি শফিউল আলম লাভলু, দেশরূপান্তর প্রতিনিধি শফিউজ্জামান রানা প্রমুখ। সভায় গরু চুরিরোধে খামার ও গরুর মালিকগণ সচেতন না হলে শুধু পুলিশের একার পক্ষে গরু চুরি রোধ করা সম্ভব নয় বলে বক্তাগণ জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নকলা উপজেলায় গরু চুরি আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে। চলতি মাসে গণপদ্দী ইউনিয়ন ও নকলা পৌরসভা এলাকাতেই চুরি হয়েছে ১২টি গরু। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে গণপদ্দী ইউনিয়নের গণপদ্দী গ্রামে ঢাক-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন দরিদ্র কৃষক আলাল মিয়ার খামার ঘরের তালা কেটে চুরি হয়েছে ৭টি গরু। যার বাজারমূল্যে প্রায় ১০ লাখ টাকা। ধারদেনা করে খামার করে আলালের পরিবার নিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।




