১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক সুতানাল দীঘিতে টিকিট কেটে বরশি দিয়ে মাছ শিকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার শালমারা সুতানাল ভূমিহীন সমবায় সমিতির আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টা থেকে সুতানাল দীঘিতে টিকিট দিয়ে মাছ শিকার শুরু হয়। আর শিকার চলে ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন জেলার সৌখিন মৎস্য শিকারীদের অংশগ্রহনে এক মিলন মেলায় পরিণত হয় সুতানাল দিঘি।

ঐতিহাসিক সুতানাল দীঘিটিকে স্থানীয় লোকজনের কেউ কমলা রাণী, কেউ আবার রাণী বিহারিণী নামেও ডাকেন। যেখানে প্রতিবছরই এই দীঘিতে টিকিট কেটে মাছ শিকার করতে আসেন দেশের বিভিন্ন এলাকার মাছ শিকারিরা। তাদের জন্য দীঘির পাড়ে বানানো হয় মাচা। শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ শিকারিরা দীঘির পাড়ে তাবু টানিয়ে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ সেখানেই মাছ রান্না করে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করছেন। বাহারি ছিপ আর নানান খাদ্য উপাদান মেশানো মাছের খাবার প্রস্তুত করে সারি ধরে বসে আছেন শিকারীরা। এছাড়াও মাছ শিকার দেখতে শত শত দর্শণার্থীর ভিড় দেখা গেছে দীঘির দুই পাড়ে।
এবার দিঘির পাড়ে মাছ শিকারের জন্য রাখা ছিল ১০০টি মাচা। প্রতিটি মাচা ২০ হাজার টাকা দরে টিকিটে বিক্রি করা হয়। এতে ৬৭ টি মাচা ২০ হাজার টাকা দরে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। মাছ ধরতে সেখানে গিয়েছেন জামালপুর,গাজীপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের শৌখিন মাছ শিকারিরা। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার দিনব্যাপি বৃষ্টি ও আকারে বড় মাছ না পাওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছেন তারা।
টাঙ্গাইল থেকে আসা মনিরুল হোসেন ইমন বলেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে আমি নালিতাবাড়ীর এ দিঘিতে আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মাছ শিকারে আসি। তবে এবার তাদের মাছগুলো আকারে ছোট। ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের মাছ বেশি। বড় মাছের দেখাই মেলে না। জামালপুরের গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মাছ শিকার করতে ভালো লাগে। তাই শখের বশে যেখানে মাছ শিকারের খবর পাই সেখানেই যাওয়ার চেষ্টা করি। এরই মধ্যে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৭টি পুকুরে মাছ শিকারের অভিজ্ঞতা আছে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা আব্দুল আজিজ বলেন, এখানে মাছগুলো আকারে মাঝারি। আধা কেজি থেকে এক কেজির মাছই বেশি ধরা পড়ছে। আমরা ৯ জন এসেছি। ২০ হাজার টাকায় মাচা কিনেছি। নিজেদের খাবার, মাছের খাবার, মাইক্রো ভাড়া সব মিলিয়ে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।

শালমারা সুতানাল ভূমিহীন সমবায় সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন বলেন, এই দিঘিতে দেশীয় প্রজাতির রুই, কাতল, মৃগেল, ব্রিকেট, সিলভার কার্প ও কার্পিও মাছসহ নানা জাতের মাছ সমিতির মাধ্যমে চাষ করা হয়। এখানে ১ কেজি থেকে শুরু করে ১৫/২০ কেজি ওজনের মাছ রয়েছে। টিকিটের মাধ্যমে শুধুমাত্র বড়শি দিয়ে এ মাছ শিকারের উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মাছ চাষের বিক্রিত লভ্যাংশের টাকা সমিতির সদস্যদের মাঝে সমহারে বন্টন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কাকরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়ামুল কাউসার বলেন, দূরদূরান্তের মৎস্য শিকারীদের অংশগ্রহণে প্রতি বছর সুলতান দিঘী এক মিলন মেলায় পরিনত হয়। এছাড়া জেলাার ঐতিহাসিক স্থান হওয়ায় বছরের প্রায় প্রতিদিনই উৎসুক মানুষ কিংবা পর্যটকরা ছুটে আসেন এই দিঘিটিকে দেখতে। তবে তিনি বলেন, এই দিঘিতে আসার কিছু অংশ ও পুকুরের চারপাশের রাস্তা এখনো কাঁচা রয়েছে। তাই এসব রাস্তা পাকাকরণ করা হলে মৎস্য শিকারী কিংবা পর্যটকরা এখানে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে মাছ শিকার ও ভ্রমণ করতে পারতেন।




