শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কবিতা খাতুন (২৫) নামে দুই সন্তানের এক গৃহবধূ। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না তাঁর পরিবার। চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থায় সেই টাকা জোগাড় করা পরিবারটির কাছে যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, কবিতা খাতুন উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া (ঘাগড়ালস্কর) গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আনার আলী পেশায় বাসচালক ছিলেন। ‘সোনার বাংলা’ পরিবহনের বাস চালিয়ে কোনোভাবে চলত তাঁদের পাঁচ সদস্যের সংসার। কিন্তু ২০২৫ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর দুই পা ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে আর কাজ করতে পারেন না আনার আলী। অর্থাভাবে নিজের চিকিৎসাও ঠিকমতো করাতে পারছেন না তিনি।
পরিবারটির সহায়-সম্বল বলতে মাত্র দুই শতাংশ বসতভিটার জমি। আয়ের একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছেন আনার আলীর মা আমেনা বেগম। পাশের একটি মাদ্রাসায় ঝাড়ুদারের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই ছেলের পরিবারে দুই নাতি, ছেলে ও ছেলের স্ত্রীসহ পাঁচজনের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়। অনেক দিনই তাঁদের খেয়ে না খেয়ে কিংবা অর্ধাহারে দিন কাটে।

এরই মধ্যে প্রায় তিন মাস আগে হঠাৎ কবিতা খাতুনের জরায়ু ক্যানসার ধরা পড়ে। স্বামীর অসুস্থতার পর স্ত্রীর এই জটিল রোগ যেন পরিবারটির ওপর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে। অর্থের অভাবে শুরু করা যায়নি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে তা করানো সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ায় কবিতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনেরা।
কবিতার ছোট ছোট দুই সন্তান মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। অসুস্থ শরীর নিয়েও সন্তানদের জন্য বেঁচে থাকার আকুতি তাঁর। কিন্তু চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পারায় প্রতিটি দিনই যেন তাঁর পরিবারের কাছে নতুন এক দুশ্চিন্তা হয়ে দেখা দিয়েছে।
আনার আলী বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনি নিজেই কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। এখন স্ত্রীর চিকিৎসার জন্যও প্রয়োজনীয় টাকা তাঁর হাতে নেই। দুই সন্তানকে নিয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য মানুষের সহযোগিতাই এখন তাঁদের একমাত্র ভরসা।
অসহায় এই পরিবারের পক্ষ থেকে দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে জরুরি অস্ত্রোপচার করিয়ে দুই সন্তানের মা কবিতা খাতুনকে হয়তো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে স্বাভাবিক জীবনে।




