বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। এটাই সুন্দর ও শ্বাশত। কিন্ত যে শিশুর মা নেই সে মাতৃক্রোড় কোথায় পাবে। তবে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কোলে উঠে ক্ষণিকের জন্য মায়ের উঞ্চ তাপের পরশ নিলো মা হারা এতিম ছোট্ট শিশু আব্দুল্লাহ। ফুটফুটে এই শিশুকে জেলা প্রশাসকের কোলে নেওয়ার দৃশ্য জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে শেয়ার করা হয়েছে। এতে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন জেলা প্রশাসক।

জানা যায়, আব্দুল্লাহ’র বয়স মাত্র তিন মাস। মাত্র দেড় মাস বয়সে তার মা খুনের শিকার হয়। মা খুন হওয়ার পর আব্দুল্লাহ থাকে তার দাদাদাদীর সাথে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ওদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। ১৪ অক্টোবর বুধবার দুপুরে স্বজনরা আব্দুল্লাহকে নিয়ে গণশুনানীতে শেরপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে আসেন। স্বজনরা আব্দুল্লাহকে নিয়ে ডিসির অদূরে বিপরীত পাশের চেয়ারে বসেছিলেন। ওই স্থান থেকেই আব্দল্লাহ বারবার ডিসির কোলে উঠার জন্য হাত বাড়াচ্ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে এলে আব্দুল্লাহকে কোলে নেন ডিসি ফরিদা ইয়াসমিন। ডিসির কোলে উঠেই খেলা শুরু করে শিশু আব্দুল্লাহ। ডিসির গলার মালা, গলা, কপোল, কান, অধর ধরে হাসি আনন্দে মেতে উঠে শিশুটি। সে যেন মায়ের কোলকে খোঁজে পেয়েছে। শিশুকে বারবার কোল থেকে নামিয়ে কাজে ফেরার চেষ্টা করেও পরাজিত হয়েছেন ডিসি। আধা ঘন্টার আদর ও খুঁনসুটি করে অন্যের সহযোগিতায় অবশেষে স্বজনের কোলে দেওয়া গেছে। শিশুর কান্নায় চোখের কোণে পানি জমেছিল ফরিদা ইয়াসমিনের। তবে দ্রুতই আবেগ সামলিয়ে গণশুনানীর কাজে মনোনিবেশ করেন নারী ওই জেলা প্রশাসক। বিষয়টি উপস্থিত কর্মকর্তা ও গণশুনানীতে আসা মানুষের হৃদয় কেড়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাকিল আহমেদ জানান, ওই ক্ষণটি স্মৃতিতে ধরে রাখার মত। অবুঝ ওই শিশুকে কোল থেকে নামাতে কষ্ট ও খারাপ লেগেছে। উপস্থিত সবাই আপ্লুত হয়েছেন। মায়ের অনুপস্থিতি অন্য মায়ের কোলে উঠে সে মাকে অনুভব করেছে। আসলে সকল মায়ের কোলই তো শিখেছে অবুঝ আপন। আমরা কিছুক্ষণ নীরবতায় বিষয়টি অবলোকন করেছি। যে বুকের স্পর্শে একদিন সে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ত, সেই বুক যে আর কখনো ফিরে আসবে না। এই নির্মম সত্য বোঝার বয়স এখনো হয়নি তার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটিকে আর্থিক সহযোগিতা ও কাপড় চোপড় দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের বাইরে একজন মা। যে কোন শিশুর প্রতিই আমার দুর্বলতা আছে। আব্দুল্লাহর মায়ের কথা শুনে একটু বিশেষ খারাপ লেগেছে। আমি ঘনঘন শিশুটির খবর রাখবো।
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে ওই শিশুর মাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তখন আব্দুল্লাহ মায়ের কোলে বসে দুধ খাচ্ছিল।




