শেরপুরের নকলায় কালবৈশাখীর ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ১১ মে বৃহস্পতিবার বিকেলের ওই ঝড়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির কাঁচাপাকা ধান ও মৌসুমী শাকসবজির বাগান এবং আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচুসহ বিভিন্ন ধরণের মৌসুমী ফলের ক্ষতি হয়েছে। উপড়ে গেছে সহস্রাধিক গাছপালা ও বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েকটি কাঁচা, পাকা ঘর। উড়ে গেছে ঘরের চাল। অনেক জায়গায় সড়কে গাছপালা পড়ে যান চলাচল বিঘ্ন হচ্ছে।

ঝড়ে নকলা পৌরশহরে পিন্টু মাস্টারের নির্মাণাধীন একটি ৩ তলা ভবনের ৩ তলার ওয়াল ধ্বসে পড়ে নিচের ৩টি দোকানের ক্ষতি হয়েছে। এতে ২ জন আহত হয়। পরে তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ঝড়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি ৪ তলা বাণিজ্যিক ভবনের ৪ তলার বেশ কিছু অংশ ধ্বসে পড়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
নকলা পৌরসভার চরকৈয়া মৌজায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় উচ্চমূল্য ফসল আবাদের জন্য একটি পলিনেট হাউজ প্রদর্শনী সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের তার ছিড়ে যাওয়ায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

পাঠাকাটা ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়া গ্রামের কৃষক সাদেক আলী জানান, ঝড়ে তাঁর এক একর জমির আধাপাকা বোরোধান মাটিতে লেপটে গেছে। ক্ষতি হয়েছে মৌসুমী শাকসবজির বাগানের। পৌরসভার লাভা মহল্লার কৃষক বেলায়েত হোসেন বলেন, ঝড়ে তাঁর লিচু, কলার বাগান, আম ও কাঠাল এবং ৫০ শতক জমির পাকা বোরোধান ও সবজি বাগানের ক্ষতি হয়েছে।
সহকারি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ জমির ধান কঁটা হয়েছে। বাকী জমির ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। শাকসবজির বাগানের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তাছাড়া গ্রামাঞ্চলের যেসব জায়গায় সড়কে গাছ পড়ে মানুষ ও যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে সেখানে এলাকাবাসী মিলে গাছ সরিয়ে চলাচলের পথ পরিস্কার করছে।




