শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নিজে দরিদ্র হয়েও ব্যক্তি উদ্যোগে ১শ হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন বায়েজিদ হাসান নামে এক ব্যক্তি। ১২ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের নিজ বাড়িতে এসব কম্বল বিতরণ করেন তিনি। নিজ সন্তানদের ভবিষ্যত উন্নতির জন্য মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন বায়েজিদ হাসান।

কম্বল বিতরণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিব মো. সিদ্দিক ঝিলাম, নলকুড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও রশিদুর রহমান খান এমদাদুল, সমাজসেবক মো. মিজানুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জানা যায়, বায়েজিদ হাসান উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়ন জাতীয় শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি দুই সন্তানের জনক ও পেশায় একজন কাঠ মিস্ত্রি। এ পেশার সাথে জরিত থাকায় এলাকায় লোকজন তাকে ছুতোর নামেও ডেকে থাকে। বড় মেয়ে সুবর্ণা আকতার বিথি সে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। তার ছোট মেয়ে সাদিয়া জান্নাত স্মৃতির বয়স চার বছর।

বায়েজিদ হাসানের অভাব অনটনের সংসার থেকেও স্থানীয় ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তবে ওই নির্বাচনে বিজয়ী হননি। তিনি দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান বায়েজিদ হাসান।
তিনি বলেন, কোনও পেশাকে কারও ছোট করে ভাবা ঠিক নয়। কাঠ মিস্ত্রি কাজ করে সংসারের খরচ যোগান পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যত উন্নতির জন্য মাটির ব্যংকে জমানো হয়েছিল টাকা। বিকেল গড়লেই ঠাণ্ডা আর সন্ধা হলে শীত জেঁকে বসে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে। হিম হিম ঠাণ্ডা আর কুয়াশায় নাকাল জনজীবন। শীতের এই তীব্রতা বেশি কাবু করে নিম্ন আয়ের মানুষকে। শীতার্ত অসহায় ও দুঃস্থ মানুষকে উষ্ণতা দিতে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জমানো টাকায় এসব কম্বল বিতরণ করেছেন তিনি।




