বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেরপুর মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৭ ডিসেম্বর বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের চকবাজারস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি। এরপর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

পরে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি। ওইসময় তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৯ মাসে শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৩০/৪০টি খণ্ডযুদ্ধ হয়। এসব যুদ্ধে ৫৯ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এছাড়া পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে ১৮৭ জন, শেরপুর সদর উপজেলার সূর্যদী গ্রামে ৪৯ জন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার জগৎপুর গ্রামে ৪১ জন শহীদ হন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বিপিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল, পৌর মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার এ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান আকন্দ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুকতাদিরুল আহমেদের সঞ্চালনায় ওইসময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ এজেড মোরশেদ আলী, সিভিল সার্জন ডা. অনুপম ভট্টাচার্য্য, জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. জসিম উদ্দিন, জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধাগণসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে এক দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর শেরপুর পাক হানাদার মুক্ত হয়। এদিন ভারতীয় সেনা বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার ও মিত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা শহীদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে শেরপুরকে হানাদারমুক্ত বলে ঘোষণা দেন।




