শেরপুরের নকলায় নি:সন্তান দিনমজুর সুরুজ আলী (৬৫) হত্যা মামলায় আসামী শাহাদাত হোসেন আরজু (৫৮), তাঁর ছেলে সালেহ আহাম্মেদ (৩৫) ও ভাতিজা লোটাস মিয়াকে নকলা থানায় দায়ের করা মামলায় রিমান্ড শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

৫ ডিসেম্বর সোমবার পুলিশ এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁদেরকে আদালতে হাজির করে। নিহত সুরুজ আলী চরঅষ্টধর ইউনিয়নের নারায়নখোলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মন্নেছ আলীর ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, রিমান্ডে হত্যাকান্ডের বিষয়ে আসামীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তদন্ত কাজের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে সুরুজ বাড়ি হতে নারায়নখোলা বাজারে যাওয়ার পথে সাইদুল ইসলামের মুদির দোকানের সামনে আরজু, সালেহ ও লোটাস সুরুজকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং গাছের সাথে বেঁধে রাখে। পরে আবার মারধরের সময় সুরুজ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন মৃত ভেবে আসামীরা তাঁকে পার্শ্ববর্তী কাজাইকাটা গ্রামের শিমুলতলী বাজারের কাছে একটি ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়।
পরে বিষয়টি জানাজানি শুরু হলে আরজু, সালেহ ও লোটাস সড়ক দূর্ঘটনায় আহত দেখিয়ে সুরুজকে ওই দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুরুজ মারা যায়।
এ নিয়ে সুরুজ আলীর ছোট ভাই খোকা মিয়া (৬২) বাদী হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামী করা হয় একই গ্রামের মৃত হাজী ময়ছর আলীর ছেলে শাহাদাত হোসেন আরজু (৫৮), আরজুর ছেলে সালেহ আহাম্মেদ (৩৫) ও আরজুর বড়ভাই আক্রাম হোসেনের ছেলে লোটাস মিয়াকে (৩৭)।
পরবর্তীতে আসামীগণ উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষে ২৩ নভেম্বর আসামীগণ নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ১ ডিসেম্বর শেরপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফারিন ফারজানা আসামীদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।




