শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের জানকীপুর গ্রামে স্ত্রী শাহানাজ বেগম হত্যা মামলায় স্বামী রাসেল খানকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৪ ডিসেম্বর রবিবার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কামরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। স্ত্রী শাহনাজ তার প্রথম স্বামী মানিক মিয়ার সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়লে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। সে কারণে রাসেল ৩ ডিসেম্বর শনিবার রাতে শাহানাজকে খুন করে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, প্রায় ২০ বছর আগে শাহনাজের প্রথম বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী বাড়ির সুরুজ মিয়ার ছেলে মানিক মিয়ার সাথে। ১২ বছর আগে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সে সংসারে শাহনাজের ২টি সন্তান রয়েছে।

পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে শাহনাজ গাজীপুরের ঘরঘরিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি পোশাক তৈরি কারখানায় কাজ নেয়। সেখানে পরিচয় হয় স্থানীয় মজিবর রহমানের ছেলে রাসেল খানের (৫০) সাথে। পরিচয়ের একপর্যায়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু রাসেলের স্ত্রী-সন্তান থাকায় এ নিয়ে পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে।
বছর তিনেক আগে শাহানাজ রাসেলকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে। সেখানে আলাদা বাড়িতে থেকে দিনমজুরের কাজ করে চলত তাদের সংসার।
কিন্তু পারিবারিক অশান্তি তাদের পিছু ছাড়ছিলো না। প্রতিদিনের মত ৩ ডিসেম্বর শনিবার রাতে তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে রাসেল শাহনাজকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং বাহির থেকে ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শাহানাজের মা লাকী বেগম ৪ ডিসেম্বর রবিবার নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।




