শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক সুতানাল দীঘিতে টিকিট কেটে বরশি দিয়ে মাছ শিকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার শালমারা সুতানাল ভূমিহীন সমবায় সমিতির আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টা থেকে সুতানাল দীঘিতে টিকিট দিয়ে মাছ শিকার শুরু হয়। আর শিকার চলে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে এবার আকারে ছোট মাছ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শিকারিরা।

ঐতিহাসিক সুতানাল দীঘিটিকে স্থানীয় লোকজনের কেউ কমলা রাণী, কেউ আবার রাণী বিহারিণী নামেও ডাকেন। যেখানে প্রতিবছরই এই দীঘিতে টিকিট কেটে মাছ শিকার করতে আসেন দেশের বিভিন্ন এলাকার মাছ শিকারিরা। তাদের জন্য দীঘির পাড়ে বানানো হয় মাচা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ শিকারিরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে দীঘির পাড়ে তাবু টানিয়ে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ সেখানেই মাছ রান্না করে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করছেন। বাহারি ছিপ আর নানান খাদ্য উপাদান মেশানো মাছের খাবার প্রস্তুত করে সারি ধরে বসে আছে শিকারীরা। এছাড়াও মাছ শিকার দেখতে শত শত দর্শণার্থীর ভিড় দেখা গেছে দীঘির দুই পাড়ে।

এবার দিঘির পাড়ে মাছ শিকারের জন্য রাখা ছিল ১০০টি মাচা। প্রতিটি মাচা ১৮ হাজার ৫০০ টাকা টিকিটে বিক্রি করা হয়েছে। মাছ ধরতে সেখানে গিয়েছেন জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের শৌখিন মাছ শিকারিরা। তবে এবার আকারে ছোট এবং কম মাছ পাওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছেন তারা।
টাঙ্গাইল থেকে আসা মনিরুল হোসেন ইমন বলেন, ‘১৯৮৫ সাল থেকে আমি নালিতাবাড়ীর এ দিঘিতে আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে মাছ শিকারে আসি। তবে এবার তাদের মাছগুলো আকারে ছোট। ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের মাছ বেশি। বড় মাছের দেখাই মেলে না।
জামালপুরের গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মাছ শিকার করতে ভালো লাগে। তাই শখের বশে যেখানে মাছ শিকারের খবর পাই সেখানেই যাওয়ার চেষ্টা করি। এরই মধ্যে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি পুকুরে মাছ শিকারের অভিজ্ঞতা আছে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা আসাদুজ্জামান বলেন, এখানে মাছগুলো আকারে ছোট। আধা কেজি থেকে এক কেজির মাছই বেশি ধরা পড়ছে। আমরা ৯ জন এসেছি। ১৮ হাজার ৫০০ টাকায় মাচা কিনেছি। নিজেদের খাবার, মাছের খাবার, মাইক্রো ভাড়া সব মিলিয়ে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে।
শালমারা সুতানাল ভূমিহীন সমবায় সমিতির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সমিতির আগের কমিটির লোকজন মাছ ছাড়ে নাই। আমরা এসে মাছ ছাড়ছি। তাই মাছগুলো খুব বেশি বড় হয়নি। আমাদের খালে বড় বড় মাছও আছে। টিকিট বিক্রির সময় শিকারীদের এসব বলে দেওয়া হয়েছে।




