রমজান মাসে বাড়তি মুড়ির চাহিদা সামাল দিতে শেরপুরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনে (বিসিক) মুড়ি কারখানাগুলোতে ব্যস্ত সময় কাটছে শ্রমিকদের। রমজানের আগে থেকেই মুড়ি তৈরিতে এই ব্যস্ততা শুরু হলেও এখনও কমেনি তাদের কাজের চাপ। শেরপুর জেলাসহ আশেপাশের জেলার বিভিন্ন পাইকারদের হাতে মুড়ি তুলে দিতে রমজানের শুরুতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারখানাগুলো।

জানা যায়, রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম একটি খাবার হিসেবে মুড়ির বেশ কদর। মুড়ি ছাড়া বাঙালির ইফতারি যেন জমেই না। তাই প্রতিবছর রমজানকে সামনে রেখে মুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটান মুড়ি কারখানার শ্রমিকরা। তবে এবার রমজান শুরু হয়ে গেলেও শেরপুরের মুড়ি কারখানার মালিক-শ্রমিকদের ব্যস্ততা কমেনি। রাত-দিন মেশিনের খটখট শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে মিলগুলো। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এখানকার মুড়ি আশপাশের জেলাগুলোতেও যাচ্ছে। গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এসব চিত্র। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে বাজারে এবার চাহিদা তুলনামূলক একটু কম বলে জানিয়েছেন মুড়ি মিলের মালিকরা। এবার ৬০-৬২ টাকা কেজি দরে মুড়ি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আর খোলাবাজারে মুড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেরপুর শহরের বিসিক এলাকায় তিনটি মুড়ি মিলে আধুনিক মেশিনে মুড়ি তৈরি করা হয়। কারখানাগুলো ঘুরে দেখা যায়, মুড়ি শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ মেশিনে চাল ঢালছেন, কেউ মেশিন চালাচ্ছেন। আবার কেউ গরম গরম ভাজা মুড়িগুলো বস্তায় তুলছেন, আর কেউ মুড়ি পলিথিন কাগড়ে ভরে ওজন করছেন। আবার কেউ মাথায় নিয়ে সেগুলো গুদামজাত করছেন।

মুড়ি কারখানার শ্রমিক মো. আব্বাস উদ্দিন বলেন, রমজান মাসে মুড়ির চাহিদা থাকে বেশি। তাই তখন দিনরাত কাজ করে মুড়ি ভাজি। কাজের চাপও বেশি থাকে। কারখানার মহিলা শ্রমিক মোছা. সাজেদা বেগম বলেন, আমি মুড়ি ওজন করে কাগজে প্যাকিং করি। এখন রমজান মাস, তাই আমাদের কাজের চাপ অনেক বেশি। সারাবছর এত চাপ থাকে না। মুড়ি কারখানার ম্যানেজার আব্দুল মান্নান জানান, তাদের উৎপাদিত মুড়ি শেরপুরের বাজারগুলোতে নিয়মিত বিক্রি হয়। পাশাপাশি জেলার চাহিদা মিটিয়ে জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলাতেও যাচ্ছে। তবে বাজারে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার মুড়ির বিক্রি একটু কম। তিনি বলেন, তেল, ময়দা, চিনি বেশি বেশি কিনে আগেভাগেই টাকা ইনভেস্ট করে ফেলেছে দোকানদাররা। তাই এখন তাদের হাতে টাকা কম থাকায় মুড়িতে আগ্রহও কম দেখাচ্ছেন। তবে রোজা কয়েকটি গেলে মুড়ির চাহিদা বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।
এদিকে কমদামে মুড়ি কিনতে অনেকেই বিসিকে অবস্থিত কারখানা থেকে সরাসরি মুড়ি কিনে নিয়ে যান। সেখানে মুড়ি কিনতে যাওয়া স্থানীয় মো. আবু জাফর বলেন, বাজারের চাইতে এখানে কমদামে মুড়ি পাওয়া যায়। তাই বাড়ির কাছে হওয়ায় এখান থেকে মুড়ি কিনি আমি।
এ ব্যাপারে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভেজাল মুড়ি যেন বাজারে না আসে, সেজন্য নিয়মিত তদারকি করছে জেলা নিরাপদ খাদ্য বিভাগ। বিসিকের কারখানাগুলো ও দোকানে দোকানে আমরা নিয়মিত পরিদর্শনে যাচ্ছি। সেইসাথে কারখানার মালিকদের কাউন্সিলিং করাচ্ছি, যাতে তারা মুড়িতে কোন ভেজাল না করেন।




