ads

মঙ্গলবার , ২৬ অক্টোবর ২০২১ | ১২ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

উন্নয়ন অভিযাত্রায় পিছিয়ে নেই সীমান্ত জেলা শেরপুর

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক - ফটো কার্ড
অক্টোবর ২৬, ২০২১ ৭:৫৫ অপরাহ্ণ

ষোলকলা পূরণে প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও রেলপথ

ইতিহাস-ঐতিহ্য আর আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে আলোকিত এক প্রাচীন জনপদ শেরপুর। এ জনপদ বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে মেঘালয়ের তুষার-শুভ্র মেঘপুঞ্জ ও নীল গারো পাহাড়ের স্বপ্নপটে মানস সরোবর থেকে হিমালয় ছুঁয়ে নেমে আসা ব্রহ্মপুত্র এবং ভোগাই, নিতাই, কংশ, সোমেশ্বরী, মহারশি ও মালিঝির মত অসংখ্য জলস্রোতের হরিৎ উপত্যকায় গড়ে উঠা। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, প্রাচীনকালে এ জনপদ কামরূপ রাজ্যের অর্ন্তভূক্ত ছিল। পরবর্তীতে ‘শেরপুর পরগণা’, ‘শেরপুর সার্কেল’ ও ‘দশকাহনীয়া’ হিসেবে পরিচিতি পায় শেরপুর। তারই ধারাবাহিকতায় খ্রিস্টিয় অষ্টাদশ শতাব্দীর সূচনায় দশকাহনীয়ার জায়গীরদার- দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর সফলতার সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করে খ্যাতির শীর্ষে আরোহণকারী গাজী বংশের শেষ জমিদার কিংবদন্তীখ্যাত শাসক শেরআলী গাজীর নামানুসারে নামকরণ হয় দেশের প্রান্তিক ও সীমান্তবর্তী জেলা ‘শেরপুর’। ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় থাকা ছোট্ট এ জেলার আয়তন ১৩৬৩.৭৬ বর্গকিলোমিটার এবং তার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। ৫টি উপজেলা, ৪টি পৌরসভা, ৫২টি ইউনিয়ন ও ৬৭৮টি গ্রাম সমৃদ্ধ এ জেলায় সংসদীয় আসন ৩টি। এ জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে কৃষি। একসময় অধিকাংশ জমি ছিল একফসলি। পরবর্তীতে অধিকাংশ জমি ২ বা ৩ ফসলি জমিতে রূপান্তরিত করা হয়। যে কারণে খাদ্য উৎপাদনে অনেকটাই এগিয়ে শেরপুর। এখানকার সুগন্ধি তুলশীমালা চাল এবং সীমান্তের পাহাড়ঘেরা পর্যটন এলাকা স্থান পেয়েছে জেলা ব্র্যান্ডিং-এ। আর তার স্লোগান করা হয়েছে ‘পর্যটনের আনন্দে, তুলসীমালার সুগন্ধে’। এ জেলা যেমন সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলায় ভরপুর, তেমনি কৃষি ও খাদ্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়েও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। একইসাথে ইতিহাস-ঐতিহ্যও বেশ গৌরবময়।

Shamol Bangla Ads

দেশ স্বাধীনের পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শেরপুরকে থানা থেকে সরাসরি ৬১তম জেলা ঘোষণা করেন এবং ঘোষিত জেলার গর্ভনর হিসেবে মনোনিত করেন আওয়ামীগ নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এমপিএ এ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানকে। কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ‘কালো অধ্যায়ে’ রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের কারণে বঙ্গবন্ধুর সেই ঘোষণা আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ৮ জানুয়ারি জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময়কালে শেরপুর থানা থেকে মহকুমায় এবং ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়কালে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়। ৫টি উপজেলা তথা শেরপুর সদর, নালিতাবাড়ী, নকলা, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী নিয়ে নতুন জেলা শেরপুরের যাত্রা শুরু হয় অনেকটা শূন্য থেকে। নানা সমীক্ষায় দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫১ বছরে আওয়ামী লীগ ৫ দফায়, বিএনপি (একবার খণ্ডিতসহ) ৪ দফায় ও জাতীয় পার্টি ৩ দফায় শাসনক্ষমতায় থাকলেও ওইসময়কালে শেরপুরে দৃশ্যমান উন্নয়ন যা হয়েছে তার প্রায় ৮০ ভাগই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হয়েছে।

১৯৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং যোগাযোগ সংস্কারে তেমন মনোযোগ দেয়নি। ফলে এ বিস্তীর্ণ জনাঞ্চলের মানুষ শিক্ষায় ও অর্থনীতিতে বরাবরের মতোই পিছিয়ে থাকে। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঐক্যমত্যের সরকার গঠিত হলে শেরপুরকে নতুন করে সাজাতে শুরু হয় উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। ওইসময় জেলার ৩টি আসন থেকেই আওয়ামী লীগ দলীয় অর্থাৎ শেরপুর-১ (সদর) আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক, শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ‘অগ্নিকন্যা’ খ্যাত বেগম মতিয়া চৌধুরী ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে এমএ বারী এমপি নির্বাচিত হন। আর বেগম মতিয়া চৌধুরী মনোনীত হন সরকারের কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ ৩ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। আর ওই দফায় সরকারের উন্নয়ন নীতির আওতায় জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে হাতে নেওয়া হয় উন্নয়নমুখী প্রকল্প। তারই ধারাবাহিকতায় জেলা পর্যায়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস, পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, হিমাগার, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিউট, ভোকেশনাল স্কুল এন্ড কলেজ, জেলা যুব উন্নয়ন অফিস, কর্মসমস্থান ব্যাংক, নার্সিং ইনস্টিটিউট, পিটিআইসহ ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন সাধিত হয়। এরপর ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে ধারাবাহিক উন্নয়নে পড়ে ছেদ। ওইসময় শেরপুর-২ আসনে বিএনপি দলীয় হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরী ও শেরপুর-৩ আসনে মাহমুদুল হক রুবেলের বদান্যতায় তাদের স্ব-স্ব এলাকায় কিছুটা উন্নয়ন হলেও শেরপুর-১ আসনে আতিউর রহমান আতিক বিরোধী দলীয় এমপি হওয়ায় উন্নয়ন বৈষম্যের কারনে এখানে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ৩ (২০০৯, ২০১৪ ও ২০১৮) মেয়াদেই বেগম মতিয়া চৌধুরী ও আতিউর রহমান আতিকের পাশাপাশি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে প্রকৌশল একেএম ফজলুল হক চাঁন এমপি নির্বাচিত হয়ে আসছেন। কিন্তু শেষ ২ মেয়াদেই মন্ত্রীসভায় নেই দলের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তবে একই সময়ে (২ দফায়) প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় সংসদে হুইপ হিসেবে রয়েছেন ‘মাটি ও মানুষের নেতা’ হিসেবে খ্যাত, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিক। নিজ উদ্যোগে জেলা সদরে ৪টি কলেজ ও ১০টি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলসহ একাধিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তিনি যেমন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন, তেমনি ছোট্ট এ জেলাকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপায়নে নিরন্তর কাজ করছেন- এমন অভিমত পর্যবেক্ষক মহলের।

Shamol Bangla Ads

আর ওইসময়ে সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রায় জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, বিআরটিএ অফিস, পাসপোর্ট অফিস, ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, শেরপুর সরকারি কলেজ ও শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজসহ সরকারি-বেসরকারি প্রায় ১০টি কলেজে চালু করা হয়েছে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স। শতশত স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বহুতল একাডেমিক ভবন। ফলে বর্তমানে এ জেলার অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন মজবুত ও প্রশস্ত, আধুনিকায়নে গতিশীল কৃষি, খাদ্যউদ্বৃত্ত, শিল্প-বাণিজ্যে প্রসারের পাশাপাশি বিপুল সম্ভাবনায় পর্যটনকে করে তুলেছে আকর্ষণীয় ও নান্দনিক। তথ্য প্রযুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে যেতে জেলার ৩১টি স্কুল, ৮টি কলেজ ও ৬টি মাদ্রাসায় স্থাপন করা হয়েছে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’। এছাড়া আরও রয়েছে ২২টি বিসিবি ল্যাব ও ৬টি আইসিটি লার্নিং ল্যাব। শহর থেকে তৃণমূলের সবখানেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। খাদ্যউদ্বৃত্ত হওয়ায় এ জেলায় ২০টি ভারি ও প্রায় ২ শতাধিক মাঝারি চাতাল শিল্প রয়েছে। সরকারের কৃষি খাদ্য ও শিল্পনীতির আওতায় সহজেই রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বেসরকারি তফসিলী ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় পরিচালিত ওই চাতাল শিল্প অর্থনৈতিক ভিতকে করেছে মজবুত। সেইসাথে কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিকের। জেলায় ধর্মীয় সংস্কৃতি চর্চা সহজতর করতে জেলা সদরে একটি বৃহৎ মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স এবং প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মডেল মসজিদ স্থাপন করা হচ্ছে। সনাতনসহ ভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও বাস্তবায়ন করা হয়েছে বেশ কিছু প্রকল্প। নাব্যতা ফিরিয়ে এনে নৌপথ চালুর লক্ষ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের শেরপুর অংশে খনন এবং অভ্যন্তরিণ খরস্রোতা নদী ও খাল খননেও চলছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নানা মেগা ও মাঝারি প্রকল্প বাস্তবায়ন। এছাড়া জেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক হওয়ার পাশাপাশি জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলায় প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও জেলাটি ইতোমধ্যে ‘বাল্যবিবাহমুক্ত’ হিসেবে ঘোষিত হওয়ায় জাতীয় উন্নয়ন-অগ্রগতিতেও শেরপুর অবদান রাখছে। শেরপুর সদরের চরপক্ষীমারী এলাকায় ৩৭০ একর জায়গাজুড়ে ‘অর্থনৈতিক জোন’ গড়ে তোলার মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে স্থাপিত হবে বিধায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধাসহ সড়কপথ, রেলপথ ও নদীপথে যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এতে সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। সেইসাথে উন্নত হবে এলাকার জীবনমানের। একইসাথে শেরপুরের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে আরও যোগ হবে নতুন মাত্রা।

তবে ময়মনসিংহ বিভাগের একমাত্র জেলা হিসেবে শেরপুরে আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি কোন পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও রেললাইন। এজন্য যদিও ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা বা টানা-পোড়েনকেই দায়ী করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল, তদুপরি ওই ৩টি প্রধান সমস্যার সমাধানই এখন শেরপুরবাসীর প্রাণের চাওয়া। এছাড়া প্রাপ্তির অপূর্ণতায় রয়েছে শেরপুর বিচার বিভাগের বহুল প্রতীক্ষিত সিজেএম ভবন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস, ফ্যাসিলিটিস বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসসহ জেলা পর্যায়ের আরও কয়েকটি অফিস। সচেতন মহল আশা করছেন, ওই সমস্যাগুলো সমাধানের মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও উৎকর্ষ তথা ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’ বা ‘উন্নয়ন অভিযাত্রা’র ধারাবাহিকতায় শেরপুরও ষোলকলায় পূর্ণ হবে, জাতীয় প্রেক্ষাপটে শিক্ষা-দীক্ষা ও মেধামননেও অবদান রাখবে।

dav

সড়ক যোগাযোগ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে সরকারের টানা ৩ মেয়াদের প্রায় ১৩ বছরে অন্যান্য দপ্তরের পাশাপাশি জেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধিনে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩শটি বড় ও মাঝারি ব্রিজ নির্মাণ এবং নকলা-নালিতাবাড়ী-নাকুগ্রাঁও স্থালবন্দর সড়ক উন্নয়ন ও নির্মাণে মেগা প্রকল্পসহ প্রায় ২শ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ওইসব প্রকল্পের মধ্যে ২৩৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮.৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নকলা-নালিতাবাড়ী-নাকুগ্রাঁও স্থলবন্দর সড়ক ২ লেনে প্রশস্তকরণ, ৮১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সীমান্ত সড়কের শেরপুর অংশ প্রশস্তকরণ, ৬৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বনগাঁও-নন্নী সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতিকরণ ও ১১ কোটি টাকা ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০.১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের শেরপুর-নকলা-ফুলপুর-ময়মনসিংহ সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার দু’টি সড়ক উন্নয়নের আওতায় ৩৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২.৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নালিতাবাড়ী-পাপিয়াঝুড়ি সড়ক উন্নয়ন, ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নকলা-শিববাড়ী সড়ক উন্নয়ন, নকলা সীমান্ত সড়কের ভোগাই নদীর উপর ১৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে ভোগাই সেতু ও ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৭ মিটার দৈর্ঘ্যের বগাডুবি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৪.৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে জামালপুর-শেরপুর-বনগাঁও সড়ক প্রস্তকরণ, ৮২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে শেরপুর (আখেরমামুদের বাজার)-লঙ্গরপাড়া-শ্রীবরদী-মামদামারী জেলা সড়ক প্রশস্তকরণ, ৪৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১.৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নকলা বাইপাস সড়ক প্রশস্তকরণ, ৪৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে শ্রীবরদী-ভায়াডাঙ্গা-ঝিনাইগাতী সড়ক, ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জুলগাও-ঝিনাইগাতী-সন্ধ্যাকুড়া সড়কসহ ৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৩ মিটার দৈর্ঘ্যের দুগধা সেতু নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহ (রঘুরামপুর)-ফুলপুর-নকলা-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ, ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৪.৭০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে জামালপুর-শেরপুর-বনগাঁও সড়ক প্রশস্ত ও মজবুতিকরণ, প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নন্দীরবাজার-ঝগড়ারচর-শ্রীবরদী-বকশীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ, ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২.৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কানাশাখোলা-অষ্টমীতলা সংযোগ সড়ক, ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নালিতাবাড়ী-বড়ুয়াজানি-বাঘাইতলা-হালুয়াঘাট সড়ক, ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বনগাঁও-নালিতাবাড়ী সড়ক, নন্দীরবাজার কজওয়ে এলাকায় প্রায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি ব্রিজসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে শেরপুর সড়ক বিভাগের আওতায় উন্নয়ন ক্ষেত্রে আরও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে।

এলজিইডি ও জেলা পরিষদসহ পৌরসভা : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল, জেলা পরিষদ ও প্রথম শ্রেণির মর্যাদার ঐতিহ্যবাহী শেরপুর পৌরসভাসহ ৪টি পৌরসভার অধীনে এ সরকারের টানা প্রায় ১৩ বছরে সড়ক উন্নয়ন ও সেতু খাতে আরও ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এলজিইডির অধীনে ১২ বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ৩ হাজার ৪১০ মিটার সেতু নির্মাণ, ২৬৭টি কমপ্লেক্স/একাডেমিক ভবন নির্মাণ এবং ৬ হাজার হেক্টর জমির পানি সম্পদ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সাথে জেলায় বর্তমানে ৩শ কিলোমিটার সড়ক, ৪১০ মিটার সেতু/কালভার্টসহ ২২টি কমপ্লেক্স/একাডেমিক ভবন ও ১০টি হাটবাজার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণাধীন রয়েছে। এলজিইডির তথ্যমতে, জেলায় ৬৪০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং ৩৯২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ১৭২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণাধীন ও ৭০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণাধীন রয়েছে। এক দশকে জেলায় ৩ হাজার ৪১০ মিটার সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমানে জেলায় ৪১০ মিটার সেতু/কালভার্ট নির্মাণাধীন রয়েছে। একই সময়ে জেলায় ৩টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, ২৯টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ৭টি হাট-বাজার ও ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় একটি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, ২টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ও ১০টি হাট-বাজার নির্মাণাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঝিনাইগাতী উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন ও নলজোড়া বাজার শেড নির্মাণ। একই সময়ে জেলায় ১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি প্রাইমারী ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ৪টি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং ৫২টি অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নকলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও সূর্যদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ। একইসাথে বর্তমানে জেলায় ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। জেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমির পানিসম্পদ উন্নয়ন করা হয়েছে, ৩১টি স্লুইস/রেগুলেটর, ৩টি রাবারড্যাম ও ১০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরটিআইপি-২, নবিডিপ-১, এমআরআরআইডিপি-৩, বন্যা-দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসন, জামালপুর-শেরপুর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ, গ্রামীণ বাজার উন্নয়ন, উপজেলা-ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনুর্ধ্ব ১শ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভসহ ২৪টি বৃহৎ প্রকল্পের ৬৩৩টি স্কীমের মধ্যে ৪৪৮টি স্কীমের কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ১৭৫টি স্কীমের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া বার্ষিক রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে ৩৩টি ছোট ও মাঝারি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে একই সময়ে শেরপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড়শ কিলোমিটার পাকা ও ৪ শতাধিক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, দেড়শতাধিক ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া শেরপুর পৌরসভায় ১শ কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ১২৫ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ, তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৮০ কিলোমিটার ড্রেনসহ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। একই সময়ে নকলা, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী পৌর এলাকাতেও সড়ক যোগাযোগ ও সেতু খাতে করা হয়েছে দৃশ্যমান উন্নয়ন।

গণপূর্ত বিভাগ : সরকারের টানা ৩ মেয়াদের চলমান সময়কালে গণপূর্ত বিভাগের আওতায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল ভবন নির্মাণসহ প্রায় ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৫০টি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী জানান, বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডিএডি অফিস কাম বাসা নির্মাণ, জেলা কারাগারে মহিলা কারারক্ষীদের আবাসন নির্মাণ, জেলা সার্ভার স্টেশন নির্মাণ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন নির্মাণ, সার্কিট হাউজের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, সরকারি শিশু পরিবার কেন্দ্রে কোয়ার্টার ভবন নির্মাণ, জেলা পুলিশ লাইন্সের ব্যারাক ভবনের সম্প্রসারণ, মহিলা ব্যারাক নির্মাণ, টিটিসি ভবন নির্মাণ, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল কাম ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ, ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী থানা ভবন, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, নালিতাবাড়ী আনসার ব্যাটালিয়ানের ব্যারাক নির্মাণ, নকলার চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন নির্মাণ, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সিআইডির অফিস ভবন নির্মাণ ইত্যাদি। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোট ৬টি মডেল মসজিদ নির্মাণ, নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ভবন নির্মাণ, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিসসহ বেশ কয়েকটি নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য : বর্তমান সরকারের চলমান সময়কালে জেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ৯২.৩৬ ভাগ নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নিশ্চিত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ ছামিউল হকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান সরকারের টানা ৩ মেয়াদে জেলায় প্রায় ৭ হাজার ৫শ বিভিন্ন ধরনের পানির উৎস স্থাপন, ৩০টি পরীক্ষামূলক নলকূপ নির্মাণ, ১৫টি পাম্প হাউজসহ উৎপাদক নলকূপ নির্মাণ, ১টি করে আর্সেনিক আয়রণ রিমুভাল প্লান্ট ও সø্যালজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ, প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের পাইপলাইন, ৩শটি কমিউনিটি ল্যাট্রিন ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, ৯ হাজার স্বল্পমূল্যের ল্যাট্রিন শেড নির্মাণ ও বিতরণ, ৫ কিলোমিটার বিভিন্ন আকারের ড্রেন নির্মাণ, ৬৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের পানির উৎস স্থাপন ও ৪শটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে একই ধরনের প্রায় ২০টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প : প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-১ ও ২ এর আওতায় শেরপুরের ৫টি উপজেলায় পৃথক পৃথক আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা ঘর পেয়েছেন ৪৫৮ পরিবার। ওইসব পরিবারকে পুনবার্সনের মাধ্যমে নানা সহায়তায় আত্মস্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস চলছে। প্রায় ৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী সোহাগপুর বিধবাপল্লীর ২৯ জন বিধবাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি করে পাকাবাড়ির আবাসনে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় জমি আছে ঘর নেই মানুষের পাশাপাশি নদীতীরবর্তী ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক মানুষকে দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ সহনীয় ঘর। তাছাড়া জেলার তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর (হিজড়া) জন্য সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায় ২ একর জমিতে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আবাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে স্থান পাওয়া হিজড়াদেরকেও সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আত্মস্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কেবল তাই নয়, নিজের জমানো ভিক্ষের টাকা অকাতরে করোনা তহবিলে দান করে উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ঝিনাইগাতীর সেই বৃদ্ধ নাজিম উদ্দিনকেও প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে জমিসহ পাকা বাড়ি।

পর্যটন : শেরপুরের সীমান্তবর্তী ৩টি উপজেলা নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী গারো পাহাড় অধ্যূষিত হওয়ায় খোদ ওই বৃহৎ এলাকাটিই গড়ে উঠেছে অঘোষিত পর্যটন এলাকা হিসেবে। এর মধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রয়াসে নানা শৈল্পিক সংযোজনে আকর্ষণীয় ও নান্দনিক করে গড়ে তোলায় ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ ও নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক আধুনিক ভ্রমণপিপাসু/পর্যটকদের অনন্য এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গজনীতে ইতোমধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাদুঘর। সেইসাথে সেখানে পর্যটন করপোরেশনের আওতায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেবাকেন্দ্র। এছাড়া দেশী প্রজাতির বৃক্ষ রোপণে জীববৈচিত্র্য ফিরে পাচ্ছে গারো পাহাড়। টেকসই বনায়ন ও জীবিকায়ন (সুফল) প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাহাড়ের ১ হাজার হেক্টর বনের জমিতে রোপণ করা হয়েছে দেশীয় প্রায় ৫০ প্রজাতির ফলমূল ও ঔষধি গাছের চারা। এতে প্রতি হেক্টরে ২ হাজার ৫শ হিসেবে মোট ২৫ লক্ষ চারা রোপণ ও শুশ্রুষায় পাহাড়ে ফিরে আসছে সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। গড়ে উঠছে জীব বৈচিত্র্যে অভয়ারণ্য। আর ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী সীমান্তের গারো পাহাড়ে গড়ে উঠছে সিলেটের আদলে চা-বাগান। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়ের বক্ষভেদ করে বয়ে চলা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সীমান্ত সড়ক এবং জেলা সদরের সাথে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় এবং ওই দুটি পর্যটন কেন্দ্রে প্রকৃতির দিগন্ত বিস্তৃত নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পরশ পেতে দিনদিন পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। এছাড়া নালিতাবাড়ীর পানিহাতা, বারোমারি খ্রিস্টান মিশন, শ্রীবরদীর রাজার পাহাড়সহ খণ্ড খণ্ড আরও কয়েকটি পর্যটন এলাকা গড়ে উঠেছে- যেগুলো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও নান্দনিক হয়ে উঠবে। তবে বিরিশিরির আদলে আদিবাসী কালচারাল একাডেমি নির্মিত হলে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। সেইসাথে পর্যটন ভবন নির্মাণসহ পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্নে পর্যটন পুলিশের ব্যবস্থা হলে জনপদটি আরও আলোকিত হয়ে উঠবে- এমন অভিমত সচেতন মহলের। সর্বশেষ জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইকোপার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ইতোমধ্যে নামকরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টের অনুমতি চেয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

নাকুগাঁও স্থলবন্দর : নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দরটিকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে নকলা বাইপাস সড়ক থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটি ২ লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি আমদানী-রফতানী অফিসসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে মাঝখানে দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকলেও এখন ক্রমেই তা সচল হয়ে উঠছে। দিনদিন বাড়ছে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের আমদানী-রফতানী। সেইসাথে বাড়ছে রাজস্ব আয়। কর্মসংস্থান হচ্ছে শতশত শ্রমজীবী মানুষের। অন্যদিকে এ বন্দর হয়ে বাংলা-ভুটান ও নেপালের সাথে ট্রানজিট বা সড়ক যোগাযোগ সহজতর করতেও আন্তঃদেশীয় তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়াম : ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে শেরপুর জেলা সদরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামকে আধুনিকায়ন এবং নকলা, নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীতে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ-সংস্কারের পাশাপাশি শ্রীবরদীতে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামটিকে ২০ হাজার দর্শকের ধারণক্ষমতার অত্যাধুনিক জেলা স্টেডিয়াম হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এতে রয়েছে আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম ও মিডিয়া সেন্টার।

সরকারের টানা ৩ মেয়াদে শেরপুরে উন্নয়ন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নের আওতায় এ জেলায় হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছে। যে কারণে সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রায় এ প্রান্তিক জেলাও এখন পিছিয়ে নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হবে’- সরকারের এ নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকেই আশা করছি সেগুলোর দ্রুত সমাধান হবে। এছাড়া রেলপথ সম্প্রসারণের প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন বলেই আমরা জানি।

এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ বলেন, বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় দেশ ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা’য় এগিয়ে যাচ্ছে। তারই আওতায় প্রান্তিক জেলা শেরপুরেও কৃষিতে আধুনিকায়ন ও বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ এবং সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বিস্তৃত করার পাশাপাশি পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, সড়ক যোগাযোগ ও সেতু, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে দেশের বা ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যান্য জেলার তুলনায় শেরপুরকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তথা অগ্রসরমান ও নান্দনিক করতে আমাদের আরও কাজ করতে হবে। তিনি এখনও জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসসহ কয়েকটি দপ্তরের পরিপূর্ণতা না থাকার কথা উল্লেখ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও রেলপথ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সেইসাথে তিনি উন্নয়নের দিক দিয়ে শেরপুরের ষোলকলা পূরণে দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রয়াসের উপরও গুরুত্বারোপ করেন।

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads