আজ ৯ ডিসেম্বর; শেরপুরের নকলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সনের এ দিনে মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সাব-সেক্টর কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে ১১৭ জন রাজাকার, আলবদর, দালাল ও আলশামছ বাহিনীর সদস্যের আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে নকলাকে হানাদার বাহিনী মুক্ত ঘোষণা করা হয়।

কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরীর সাথে ছিলেন টুআইসি আব্দুর রশিদ, সিকিউরিটি অফিসার একলিম শাহ, ইপিআর ফরহাদ, আব্দুল আলিম ভূতসহ প্রায় ১৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
জানা যায়, ১৯৭১ সনের ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সাব-সেক্টর কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা নকলাকে হানাদার বাহিনী মুক্ত করতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ঢালু থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ৮ ডিসেম্বর তারা নকলা উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়নের রুণীগাঁও গ্রামে অবস্থান করে উপজেলা সদরে অবস্থিত রাজাকার-আলবদর ক্যাম্প আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

৬ ডিসেম্বর আরেকদল মুক্তিযোদ্ধা নকলা রাজাকার-আলবদর ক্যাম্প আক্রমণ করলে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো থেকে বদর বাহিনীর সদস্যরা পেছন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ চালালে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। সে প্রেক্ষিতে কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরী সঙ্গীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে চতুর্দিকের গ্রামগুলো থেকে একযোগে রাজাকার-আলবদর ক্যাম্প আক্রমণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
৮ ডিসেম্বর বিকেলে আব্দুল হক চৌধুরী জানতে পারেন, লেফটেন্যান্ট আবু তাহের তার নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের পলাশকান্দি গ্রামে অবস্থান করতেছেন। সেদিন রাতে তার যোগাযোগ হয় আবু তাহেরের সাথে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাতেই একজন মুক্তিযোদ্ধার মাধ্যমে রাজাকার-আলবদর ক্যাম্পে পত্র পাঠানো হয় তাদেরকে আত্মসমর্পনের জন্য।
কিন্তু নকলা রাজাকার-আলবদর ক্যাম্পের প্রতিনিধি, পাকহানার বাহিনীর দোসর নকলা থানার তৎকালীন রাজাকার ওসি মজিবর রহমান পত্রের কোন উত্তর না দিয়ে আক্রমণের হুমকি স্বরূপ বাহকের নিকট একটি বুলেট পাঠায়।
মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার-আলবদর ক্যাম্পে ভয়াবহ আক্রমণ চালাতে পারে এ ভয়ে ৯ ডিসেম্বর ভোরে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যাওয়ার পথে পলাশকান্দি গ্রামে কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ১১৭ জন রাজাকার, আলবদর, দালাল ও আলশামছ বাহিনীর সদস্য ধরা পড়ে আত্মসমর্পণ করেন।




