শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গণহত্যার শিকার সোহাগপুর বিধবাপল্লীর বেঁচে থাকা বীরকন্যা ও শহীদজায়াদের মাঝে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র দেওয়া হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের বিধবাপল্লীতে বীরকন্যা ও শহীদজায়াদের হাতে ওই উপহার সামগ্রী তুলে দেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) দেবদাস ভট্টাচার্য্য।

এ উপলক্ষে শেরপুরের পুলিশ সুপার মো.কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো.আমিনুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াজকুরুনী, সাংবাদিক এমএ হাকাম হীরা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক। অনুষ্ঠান শেষে ডিআইজি ও তাঁর সহধর্মিনী মধুছন্দা ভট্টাচার্য্য বীরকন্যা ও শহিদ জায়াদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
এদিন বিধবাপল্লীর ওই নারী ও তাঁদের স্বজনদের মাঝে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল চিনি, সাবানসহ ২৬ জনকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। এছাড়া শতাধিক পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে একটি করে কম্বল দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৫ জুলাই পাকহানাদার বাহিনী দেশীয় রাজাকারের সহযোগিতায় সোহাগপুর গ্রামে অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে গণহত্যা চালায়। ওইসময় সোহাগপুর গ্রামের ১৮৭ জন গ্রামবাসীকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। অনেক গৃহবধূ নির্যাতনের শিকার হন। সেসময় সোহাগপুরের বেনুপাড়ার সমস্ত পুরুষ মানুষকে হত্যা করায় স্বাধীনতার পর গ্রামটির নাম বদলে বিধবাপল্লী হিসেবে পরিচিতি পায়। এখানে বর্তমানে বেঁচে আছেন ২২জন বিধবা নারী। এদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার ১৪জন নারীকে সরকার নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে।




