সরকারি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দেয়ার কথা বলে ইউএনও পরিচয় দিয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় হাতিয়ে নেয়া হয়েছে টাকা। প্রচারক চক্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে ফোন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচয় দিয়ে টাকা চাইলে এক শিক্ষক সে ফাঁদে পা দিয়ে ফেঁসে গেছেন। এ ঘটনার পরিত্রাণ পেতে ইউএনওর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ২৫ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও ভুক্তভোগী শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার প্রধান শিক্ষকদের মুঠোফোনে প্রতারকচক্র নিজেকে নতুন যোগদানকারী ইউএনও খৃষ্টফার হিমেল রিছিলের পরিচয় দেন। ওইসময় নতুন ল্যাপট দেওয়া হবে বলে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। এ নিয়ে শিক্ষকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান।
উপজেলার খড়খড়িয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার কাছে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা বলে ৪ হাজার ১০০ টাকা দাবি করে চক্রটি। পরে নাজমা আক্তার দ্রুত ইউএনওর নাম্বারে কথা বলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
এছাড়াও শুক্রবার রাত ৮টার দিকে প্রতারকচক্র উত্তর নাকশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্রা রানী সাহার কাছে ল্যাপটপ দেওয়া হবে বলে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি জানতে পারেন এটা প্রতারকচক্র। এই ভাবে প্রায় ২০-৩০ জন প্রধান শিক্ষকের নাম্বারে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা বলে প্রতারকচক্র টাকা দাবি করেন।

পরে বিষয়টি ইউএনও জানতে পেরে গত শুক্রবার বিকেলে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন৷ তিনি লিখেন, ইউএনওর পরিচয়ে ল্যাপটপ দেওয়ার নামে একটি প্রতারকচক্র টাকা দাবি করছেন। এ থেকে শিক্ষদের সাবধান থাকতেও বলা হয় ওই স্ট্যাটাসে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষক সামেদুল ইসলাম বলেন, আমি ব্যক্তিগত কাজে ময়মনসিংহে ছিলাম। প্রথমে ফোনটি ধরতে পারিনি । পরে স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আমাকে জানান যে ইউএনও স্যার আমাকে ফোন দিচ্ছেন। পরে দ্রুত ওই নাম্বারে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে বলেন আপনি ভাগ্যবান। আপনি ৭৫ হাজার টাকার ল্যাপটপ পেয়েছেন। এর জন্য দ্রুত ৭ হাজার ১০০ টাকা দিতে হবে। পরে অত টাকা না থাকায় আমি দুই বারে এই টাকা দিয়েছি। পরে জানতে পারি আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নাকশী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.মোফাজ্জল হোসেন বলেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে প্রতারক চক্র ইউএনওর পরিচয় দিয়ে দুটি মাদরাসা ও দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাম ও মোবাইল নাম্বার চান। নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকায় কথা ঠিকমত বুঝা যায়নি। পরে আমি তাদের নাম্বার ও নাম দিয়েছি। পরে জানতে পেরেছি ল্যাপটপের নামে ওরা টাকা দাবি করছেন। পরে শিক্ষকদের টাকা না দিতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউএনও খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন,একটি প্রতারকচক্র সক্রিয় রয়েছে। বিষয়টি আমি শোনার পরপরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের থানায় জিডি করতে বলেছি। সেই সঙ্গে দ্রুত শিক্ষকদের সাবধান করতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি। এছাড়া ইউএনও নাম্বার ব্যতীত অন্য কেও ফোন দিলে ইউএনও নাম্বারে তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন,ইউএনও কার্যালয় থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এখনও কোন শিক্ষক থানায় জিডি করতে আসেননি। এলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




