শেরপুরের নকলায় গৌড়দ্বার দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবৈধ এবং তা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে গৌড়দ্বার দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কে ওই মানববন্ধন হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আলম খানের চাকরীর মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাঁকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত করেন। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকাবস্থায় কামরুল আলম নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহবান এবং তা প্রক্রিয়াকরণ করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক নাজমুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত করেন। ১৯ নভেম্বর পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন নাজমুল আলম।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করায় জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ঢনঢনিয়া এলাকার মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেবকে নিয়োগপত্র দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদাউস জুঁই জানায়, অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমরা মানি না। তাঁর একাডেমিক ক্যারিয়ার ভাল নয়। তাঁকে দিয়ে বিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানের কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে না। সুতরাং এ নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য কোন ব্যক্তিকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম বলেন, নিয়োগ কমিটির সকলের উপস্থিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যিনি প্রথম হয়েছেন তাঁকেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব জানান, ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিদ্যালয়ের কাজে যোগদান করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচির আবদুস সামাদ জানান, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততার সাথে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। এলাকার একটি কুচক্রী মহল বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক তাঁদের পছন্দমত প্রার্থীকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে না পেয়ে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন করার পেছনে ইন্ধন যুগিয়েছে।




