“বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি” এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইগাতী থানা পুলিশের আয়োজনে উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের পশ্চিম বাকাকুড়া কমিউনিটি সেন্টারে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান, বিপিএম।

পুলিশ সুপার তার বক্তব্যের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী বঙ্গবন্ধু’র পরিবারের সদস্য ও অন্যান্যদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পরে তিনি বলেন, পুলিশের সেবাকে জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়া, সেবার কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করা এবং পুলিশের সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করায় বিট পুলিশিং এর উদ্দেশ্য। প্রান্তিক পর্যায়ে জনসম্পৃক্তির মাধ্যমে এলাকায় উত্থিত বা বিরাজমান সমস্যার প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যই আমাদের এই আয়োজন। তিনি আরও বলেন, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ সংক্রান্তে অগ্রিম গোপন সংবাদ এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিট পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুলিশ সুপার মাদক সম্পর্কে বলেন, বর্তমানের সামাজিক সমস্যাগুলাের মধ্যে অন্যতম হলাে মাদকাসক্তি। এটি শুধু দৈহিকভাবেই ক্ষতিকারক নয়, মানসিক অবস্থারও সমূহ বিপর্যয় ঘটায়। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক ভাবমূর্তিও ব্যাপকভাবে নষ্ট করে দেয়। ফলে নানা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি উদ্ভব হয় যা শুভকর নয়। কাজেই মাদককে ‘না’ বলাটাই উত্তম। মাদক নিয়ন্ত্রণে এলাকার সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই সকলকে মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবনকারীদের তথ্য পুলিশকে দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার ‘বাল্যবিবাহ ‘ বিষয়ে বলেন, “বাল্য বিবাহ ” শব্দটা বাংলাদেশে একটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বাল্যবিবাহ একটি জাতিকে রুগ্ন করে দেয়৷ করে দেয় মেধাশূণ্য। মেয়েটি শুধু নিজেই শারীরিক ঝুঁকিতে পড়ে না তার পরবর্তী প্রজন্মগুলোকেও ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। তাই বাল্যবিবাহ রোধ করা সকল সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। কোথাও বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া গেলে সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করুন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে জানানো সহ জেলা পুলিশ হট লাইন নম্বরে জানানো আহবান করেন। পুলিশ সুপার সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু নিরবিচ্ছিন্ন ঘটনা যেমন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যুসহ অপমৃত্যু নিয়ে সকলে সাবধান থাকতে বলেন এবং এসব সচেতনতা বিষয়ে পুলিশের কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হলে পুলিশকে সাথে সাথে জানানোর আহ্বান জানান। পরে তিনি সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনেন এবং সমাধান করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল আলম ভূইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) সোহেল মাহমুদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফরোজা নাজনীন, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি মোঃ আনার উল্লাহ আনোয়ার, উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন চেয়ারম্যান নবেশ খকশী, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সাধারণ সম্পাদক একেএম বেলায়েত হোসেন, কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান, ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, ইউপি সদস্য রহমত আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাশেম।
সমাবেশে এলাকার গণ্যমান্য বক্তিবর্গ, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।




