শেরপুরে ৩ শতাধিক পাওনাদারের প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে থাকা বাবর অ্যান্ড কোং (প্রা.) লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান সুজনসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার ও বিচারসহ পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৩ জুন সোমবার দুপুরে শহরের নিউমার্কেট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী ওই মানবন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাবর এন্ড কোম্পানী লিমিটেডের পাওনাদার কমিটির সভাপতি কমল পাঠান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, কবি-সাংবাদিক তালাত মাহমুদ, শিক্ষাবিদ মো. হেদায়েতউল্লাহ প্রমুখ। বক্তারা কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনা পরিশোধে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। মানববন্ধনে দেড় শতাধিক পাওনাদার অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাবর অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আবুল হাসেম অগ্রিম ইট বিক্রি করে এবং ধান ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে বাকিতে ধান কিনে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ৩৬ একর জমির ওপর স্থাপিত তার প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে দুটি অটো ব্রিকফিল্ড, তিনটি ফিলিং স্টেশন, একটি অটো রাইস মিল, পোল্ট্রিফার্মসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান এবং জেলা হাসপাতাল রোডের কাছে ৩ তলা বাড়ি ও বাগান রয়েছে। ২০১৮ সালে আবুল হাসেমের মৃত্যু হলে তাঁর জানাজায় জ্যেষ্ঠ পুত্র কামরুজ্জামান সুজন পিতার ঋণ পরিশোধ এবং ব্যবসা পরিচালনা করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এতে আশান্বিত হয়ে অনেকে পুনরায় অগ্রিম ইট কেনা ও বাকিতে ধান বিক্রি শুরু করেন।

কিন্তু মালিক পক্ষ পরস্পর যোগসাজশে অগ্রিম ইট বিক্রির ৪৫ কোটি টাকা ও চাল বিক্রির পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেদের কাছে রাখেন এব রাতের অন্ধকারে ঢাকায় পালিয়ে যান। এর কিছুদিন পর কামরুজ্জামান সুজন এবং তাঁর মায়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনাদারদের টাকা বুঝিয়ে দিতেই ঢাকায় গিয়েছেন। পরে তারা নম্বর পরিবর্তন করেন এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অনেক পাওনাদার টাকা না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলায় কামরুজ্জামান সুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।




