শেরপুরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী সদর উপজেলার ধলা ইউনিয়নের চান্দেরনগর এলাকায় ওই মেলার আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এখানে দুইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এ বৈশাখী মেলা। করোনার কারণে গত দু’বছর মেলার আয়োজন না করতে পারলেও এ বছরও বেশ সাড়ম্বরেই অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার চান্দেরনগর গ্রামে ঠিক কবে এই বৈশাখৗ মেলাটি শুরু হয় তা কেউই সঠিক জানে না। তবে এলাকার বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরা জানান, অন্তত দুইশ বছর আগে এ মেলার প্রথম আয়োজন করা হয়েছিলো। তাদের বাপদাদার আমল থেকেই প্রতি বছরই বংশ পরম্পরায় এ মেলাটি উদযাপন করা হয়ে থাকে। তাদের পূর্ব পুরুষরা মেলার আয়োজন করে গেছেন। তাই এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনও চলমান রেখেছেন মেলাটি। হারিয়ে যেতে বসা বৈশাখী মেলায় এসে আলাদা আনন্দ উপভোগ করেন এখানে আসা শিশু-কিশোর, পুরুষ-মহিলাসহ সর্বস্তরের মানুষ। মেলা উপলক্ষে এলাকার মেয়ে ও জামাইদের নিমন্ত্রণ করে নিয়ে আসে প্রায় প্রতিটি পরিবার। সবাই মিলে এ উৎসবে যোগ দিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন তারা। মেলায় ঘোড়দৌড়, গাঙ্গী বা কুস্তি, দৌড় খেলা, মোরগ লড়াইসহ নানা গ্রামীণ খেলাধূলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল বলেন, এটি শুধুই মেলা নয়, এটি হচ্ছে এ এলাকার একটি বৃহৎ উৎসব। যা আনন্দ দেয় সবাইকে। এজন্য সবাই অপেক্ষা করেন কবে আসবে পহেলা বৈশাখ। কবে উদযাপন করবেন বৈশাখী মেলা আর উৎসব। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, মেলাটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্যের হলেও এজন্য সরকারি কোন জায়গা নেই। মানুষের ব্যক্তি মালিকানা জমিতে মেলাটি হয়ে থাকে। আস্তে আস্তে মেলার জায়গাও ছোট হয়ে যাচ্ছে। এজন্য সরকার মেলার জন্য এখানে একটা জায়গার বন্দোবস্ত করে দিলে আমাদের ঐতিহ্যটি ধরে রাখা সম্ভব হতো।

চান্দেরনগর বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রহমান জানান, বাপ দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতিবছরই মেলাটি আয়োজন করে থাকি। তবে করোনার জন্য গত দু’বছর মেলাটি হয়নি। আর এখন জায়গা সংকটেও মেলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে গ্রামবাংলার এ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দিন দিন মেলার পরিধি কমলেও মেলায় আগত দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে।
মেলা শেষে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। ওইসময় তিনি ঐতিহ্যবাহী এ মেলাটি চলমান রাখতে সহায়তার আশ্বাস দেন। ওইসময় সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা, সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন রহমান অমিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




