শেরপুরে ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের লিফট বিকল থাকায় পাঁচতলায় চারবার ওঠানামা করে অসুস্থ হয়ে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩০ আগস্ট সোমবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে ঘটনা খতিয়ে দেখতে ওই কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. হাসিনাতুল ফেরদৌস লোপা, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কোহিনুর জাহান শ্যামলী ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. খাইরুল কবীর সুমন। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

৩১ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত খবর দেখে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞ রাখা হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন দিলে প্রকৃত ঘটনাটি জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, রোজিনা পারভীনের অবস্থা গুরুতর দেখে রোববার ভোরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনরা তাকে সেখানে নিয়ে যায়নি।
তদন্ত কমিটির সদস্য জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. খাইরুল কবীর সুমন জানান, ওই ঘটনায় তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। আগামীকাল বুধবার রোজিনার স্বজনদের সাথে কথা বলা হবে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট থেকে আটতলা বিশিষ্ট নবনির্মিত জেলা সদর হাসপাতালের দুটি লিফটই বিকল হয়ে যায়। এজন্য ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মোছা. রোজিনা পারভীন (৩০) নামে এক নারীকে নানা টেস্টের জন্য পাঁচতলার সিঁড়ি ভেঙে ওঠানামা করতে হয় চার দফায়। গত রবিবার শেষবার সিঁড়ি ভেঙে নামিয়ে করোনা পরীক্ষার পর ওই নারীর মৃত্যু হয়। মৃত রোজিনা পারভিন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী এলাকার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবদুস সালামের স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানের জননী। রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে গত শনিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে প্রসূতি মারা যাওয়ার পর সোমবার বিকেলে দুটি লিফটের একটি ঠিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।




