শেরপুরের নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান (৭৪) আর নেই। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৩ আগস্ট সোমবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন)। এর আগে গত ১৮ আগস্ট করোনা আক্রান্ত হন। এরপর থেকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নকলা উপজেলাসহ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

জানা যায়, অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নকলা থানা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি নকলা থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর নির্বাচনে ডিপার্টমেন্টাল ভিপি নির্বাচিত হন। ওইসময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে নকলা হাজী জালমামুদ কলেজে দর্শন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ওইসময় তিনি বাকশালের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৯১ সালে তৎকালীন ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নিজ আসনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। অধ্যাপক হিসেবে ২০১০ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান ২০১৫ সালের এপ্রিলে সম্মেলনের মাধ্যমে নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অন্যান্যের মধ্যে শোক প্রকাশ করেছেন নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আম্বিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন প্রমুখ।




