স্টাফ রিপোর্টার ॥ তরুণ সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন হত্যাকা-ের দীর্ঘ এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি মামলার তদন্তে। এখন পর্যন্ত ওই মামলায় রেলওয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে দু’জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলেও তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি ঘটনা সংক্রান্তে কোনো তথ্য। অন্যদিকে ঘটনার এক মাস পরও হত্যাকা-ের জট না খোলাসহ তদন্তে অগ্রগতি সাধিত না হওয়ায় এ নিয়ে ফাগুনের পরিবারসহ সাংবাদিক-সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
মামলার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জামালপুর রেলওয়ের থানার এসআই রকিবুল হক জানান, ওই মামলায় এখন পর্যন্ত জামালপুরের ইসলামপুর এলাকা থেকে পাংখা নামে একজন এবং ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তানজিল নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা মূলত অজ্ঞান পার্টির সদস্য। প্রথম দফায় ২ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার পরও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তানজিলকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মূলত আমরা ছিনতাইয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই এগুচ্ছি। যেহেতু নিহত সাংবাদিক ফাগুনের কাছে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন ছিল, এজন্যও অজ্ঞানপার্টির লোকজন তাকে টার্গেট করতে পারে। তবে আমরা হত্যাকা-ের ব্যাপারটিও মাথায় রেখেছি। কারণ ছিনতাইকারীরা সাধারণত ছিনতাইয়ের পরে ট্রেন থেকে ভিকটিমকে ফেলে দেয়। এতে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকে। কিন্তু সাংবাদিক ইহসান রেজার গায়ে সে রকম কোনো চিহ্ন ছিল না। তাই এটাকে কোনো সাধারণ ছিনতাইয়ের ঘটনা হিসাবে গণ্য করাও সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাপস চন্দ্র পন্ডিত জানান, ঘটনার ২ দিন পর (২৩ মে) কমিউটার ট্রেনের সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (এটিএস) দুলাল হোসেন তাকে জানিয়েছিলেন, সেদিন ট্রেনের ছাদ থেকে একজন পড়ে গিয়েছিল। তবে দুলাল বিষয়টি নান্দিনা স্টেশন মাস্টারকে জানিয়েছিলেন কিনা সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি ওই পুলিশ কর্মকর্তা। কমিউটার ট্রেনের জামালপুরের দায়িত্বে থাকা বাচ্চু মিয়া জানান, দুলাল ঈদের আগে ছুটি নিলেও এখনও কাজে যোগ দেয়নি। তার ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। দুলাল ফিরলে ওই ব্যাপারগুলো পরিষ্কার হতো।
এদিকে ফাগুন হত্যাকা-ের বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত করছে জামালপুরের র্যাব-১৪ এবং পিবিআই। তবে এতগুলো সংস্থার নজরে থাকা এবং রেলওয়ে পুলিশের কার্যক্রম সত্ত্বেও একমাস হয়ে গেলেও মামলাটির তেমন কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন ফাগুনের পরিবার ও শেরপুর-জামালপুরের সাংবাদিক নেতারা।
উল্লেখ্য, অনলাইন পোর্টাল প্রিয় ডটকমের ইংরেজি বিভাগের সাবেক সহ-সম্পাদক ইহসান রেজা ফাগুন গত ২১ মে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকেই বাড়ির সঙ্গে ফাগুনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাতে জামালপুরের রানাগাছা নামক স্থানে ঢাকা-জামালপুর রেললাইনের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। এরপর ২৪ মে ফাগুনের বাবা সাংবাদিক কাকন রেজা বাদী হয়ে জামালপুর রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।




