জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর : শেরপুরে টানা ৩ দিনের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে বিঘিœত হচ্ছে ঈদ উৎসবের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। এতে একদিকে যেমন বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মাথায় পড়ছে হাত, অন্যদিকে ক্রেতা সাধারণসহ শ্রমজীবী ক্ষুদ্র যানচালকদেরকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা যায়, নির্বিঘ্নে ঈদুল ফিতর উদযাপনসহ শহরে যানজটমুক্ত পরিবেশে মানুষের কেনাকাটা নিশ্চিত করতে এবার শেরপুর জেলা পুলিশের তরফ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওই বিশেষ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শহরের প্রধান প্রধান মোড় ও অভিজাত মার্কেট এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তা। সেইসাথে মূল শহরে রিক্সা ব্যতীত অটোরিক্সাসহ অন্যান্য সকল যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় মানুষ শান্ত পরিবেশে বেশ ভালভাবেই কেনাকাটা করছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় বাধ সাধে বৃষ্টি। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও নিম্নচাপের কারণে শেরপুর সদরসহ ৫টি উপজেলাতেই রবিবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কখনও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগের তথ্যমতে, সহসাই ওই বৃষ্টি থামার সম্ভাবনা কম। বরং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একই অবস্থা বহাল থাকতে পারে। অন্যদিকে ওই অবস্থা বহাল থাকলে নির্ঘাত কষ্টেই ঈদ কাটবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণসহ হতদরিদ্র মানুষের। মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে কথা হয় শেরপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান রৌশনের সাথে। তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে ঈদের কেনাকাটাসহ চাল ব্যবসায় মন্দা ভাব বিরাজ করছে। এতে ব্যবসায়ী-ক্রেতা উভয়কে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। জেলা বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক চন্দন সাহা জানান, এবার প্রথম ভাগেই ঈদ বাজার জমে উঠলেও শেষ মুহূর্তে টানা ৩ দিনের বর্ষণের কারণে তা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে এখন লাভ-ক্ষতির হিসেব মেলানোই কঠিন। নয়ানী বাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী জানান, কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিশেষ করে কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। বিক্রির চেয়ে তাদের অবিক্রিত মালামাল নষ্টই হচ্ছে বেশি।




