ads

মঙ্গলবার , ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নালিতাবাড়িতে ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ

অভিজিৎ সাহা, নালিতাবাড়ী - ফটো কার্ড
ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৩ ১:০৬ অপরাহ্ণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বালুঘাটা গ্রামের বাসিন্দা শামসুদ্দীন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান নিয়ে তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবার। তাঁদের আয়ের একমাত্র উৎস ঘোড়া। কারণ এই ঘোড়া দিয়েই বছরের কিছু সময় ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল আনা নেওয়ার কাজ করেন তিনি। আবার ইরি-বোরো ও আমন মৌসুমে চারা রোপণের আগে জমি সমান করার জন্য ঘোড়া দিয়ে মই দেন। আবার জমিও চাষ দেন এই ঘোড়া দিয়েই। এতে দিনে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেন তিনি।

Shamol Bangla Ads

শুধু শামসুদ্দীন নন, উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া, গোল্লারপাড় ও বালুঘাটা গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ তাঁদের আয়ের উৎস হিসেবে ঘোড়াকেই ব্যবহার করছেন। গ্রামাঞ্চলে গরু ও মহিষ দিয়ে হাল চাষ দেখা গেলেও ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ খুব একটা দেখা যায় না৷ তবে এবার এই ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করেই সংসারের জীবিকা নির্বাহ করছেন এই ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ।

শামছুদ্দীন বলেন, ঘোড়া যেনো আমার পরিবারেরই হাল বাইছে। ঘোড়া দিয়ে জমি মই দিলে একর প্রতি ৭০০-৮০০ টাকা পাই। আবার জমি চাষ দিয়ে কাঠা প্রতি (৫ শতাংশ) পাই ২০০ টাকা৷ প্রতিদিন এই ঘোড়া দিয়েই আমি এক হাজার টাকার মতো রোজগার করতে পারি। এতে ঘোড়ার যাবতীয় খরচ চালিয়ে অনায়াসে আমার সংসার চলে যায়৷

Shamol Bangla Ads

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আছেন যারা ঘোড়া লালন পালন করেন। আর ঘোড়াকেই তাদের আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাঁরা বছরের কিছু সময় ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহার করেন। আবার ইরি-বোরো ও আমন মৌসুমে চারা রোপণের আগে জমি সমান করার জন্য ঘোড়া দিয়ে মই দেন। এতে একর প্রতি ৭০০-৮০০ টাকা এবং প্রতি কাঠা(৫শতাংশ) ৪০-৫০ টাকা আয় করেন। আবার জমি চাষ দিয়ে প্রতি কাঠার জন্য পান ২০০ টাকা।

স্থানীয় কৃষক ও ঘোড়ার মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গরু ও মহিষ পালনের চেয়ে ঘোড়া পালনে খরচ অনেক কম হয়। আর ঘোড়ার রোগ-বালাই কম হয়৷ এছাড়াও ঘোড়া চুরি হওয়ার ভয় কম থাকায় অনেকেই ঘোড়া পালনে আগ্রহী হচ্ছেন।
অন্যদিকে, ঘোড়ার গাড়িতে মাল আনা-নেওয়ার পাশাপাশি ঘোড়া দিয়ে চাষাবাদের কাজ করে বাড়তি আয় করা যায়। দিনে ঘোড়া দিয়ে অনায়াসে ২-৩ একর জমি মই দেওয়া যায়।এছাড়াও জমিতে হাল চাষ করেও একর প্রতি ১৬০০ টাকা পাওয়া যায়। তাই দিন দিন ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ কৃষকদেরও আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করা আশরাফ আলী বলেন, ঘোড়ার দাম কম হওয়ায় ঘোড়া দিয়ে জমি চাষাবাদ করছেন অনেকে। তবে শুধু চাষাবাদ নয় মালামাল আনা নেওয়ার কাজেও ঘোড়া ব্যবহার করছি। ঘোড়া দিয়েই আমার সংসার চলে যাচ্ছে।

ঘোনাপাড়া গ্রামের ঘোড়ার মালিক দুদু মিয়া বলেন, ইরি-বোরো ও আমন মৌসুমে বাড়তি রোজগারের জন্য চাষাবাদের কাজ করি। দিনে ঘোড়া দিয়ে ২-৩ একর জমি মই দেওয়া যায়। আর প্রতি কাঠা ৪০-৫০ টাকা পাই। আর একর প্রতি পাই ৭০০-৮০০ টাকা। আর জমিতে হাল দিয়ে দিলে প্রতি কাঠা ২০০ টাকা পাওয়া যায়। এতে দিনে ১২০০-১৫০০ টাকা আয় হয়।

গোল্লারপাড় গ্রামের কৃষক মারুফ জানান, এলাকায় বড় কোন গরু বা মহিষ নাই। তাই ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দিতে হয়। এতে কাজ ও দ্রুত হয়। খরচও তুলনামূলক কম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, এখন যান্ত্রিক উপায়েই জমি চাষ করেন কৃষকরা। তবে উপজেলার অনেকেই বাড়তি আয়ের জন্য ঘোড়া দিয়ে মই দেওয়া ও হালচাষ করছে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads