শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সদ্য প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী-সন্তানকে মারধর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় ওই মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদের স্ত্রী বাদী হয়ে ৪ জুন শনিবার দুপুরে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে ৩ জুন শুক্রবার বিকেলে শেরপুর পৌরসভার দক্ষিণ নবীনগর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আত্মীয় ভাতিজী শান্তি বেগম গংদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার বিকেলে শান্তি বেগমসহ অন্যান্য এজাহারভূক্ত আসামী ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই মুক্তিযোদ্ধার ছেলের পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং তাতে বাধা দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হাবিবা খানম লিপি ও সন্তান হুমায়ুন রশিদ লিপনসহ কয়েকজনকে আহত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে এজাহারভূক্ত আসামী শান্তি বেগমের ভাই আব্দুল হামিদ বলেন, আমার আপন চাচা মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ সাহেবের প্রতি বা তার পরিবারের প্রতি জমি নিয়ে কোন দাবি নেই। আর আমার বোনরা কেন এমন করছে তা আমার জানা নেই। আমি চেষ্টা করেছি তাদের নিবৃত করতে, কিন্তু তারা আমার কথা শুনে না । .
এ ব্যাপারে ওই মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হাবিবা খানম লিপি বলেন, আমার স্বামী জীবনবাজী রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। অথচ তার স্ত্রী হয়ে আজ আমাকে মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। যে জমি নিয়ে বিরোধ তা আমার স্বামীর নামে খারিজ খতিয়ান হয়ে আছে এবং বৈধভাবে সেই জমির মালিক আমরা।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর আহম্মেদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং মামলাও রুজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




