শ্রীবরদী প্রতিনিধি : পাতিল চুরির অভিযোগে শেরপুরের শ্রীবরদীতে চাঞ্চল্যকর কিশোর আলম (১৬) হত্যা মামলার দীর্ঘ ১০ মাস পর প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান আবু শামা কবিরকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার ভায়াডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনম ইলিয়াস তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা যায়, ঝিনাইগাতী উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের কৃষক বাচ্চুর মিয়ার ছেলে আলম গত বছরের ১৩ আগস্ট শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা দক্ষিণপাড়াস্থ নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে পাতিল চুরির অভিযোগে আটক হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে তথাকথিত গ্রাম্য শালিসে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সামা কবির তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তার শরীরে বেত্রাঘাতসহ বেধড়ক মারপিটে গ্ররুতর আহত করে। ওই অবস্থায় শালিস ভেঙে দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয় ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে। পরে খবর পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে নিতে গেলে জানানো হয়, আলমকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। পরদিন ১৪ আগস্ট ভোরে রহস্যজনকভাবে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার হোসেনপুর এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ফুলপুর থানা পুলিশ। শালিসে আলমের ওপর বেত্রাঘাতের ভিডিও চিত্রসহ সংবাদটি মিডিয়াতে প্রচারে আলোচিত হয়ে ওঠে। এর ভিডিও চিত্র ফেসবুক ও ইউটিউবেও স্থান পায়। ওই ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয় তোলপাড়। অন্যদিকে ওই ঘটনায় থানায় মামলা দিতে ব্যর্থ হয়ে আলমের বাবা বাচ্চু মিয়া বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবু শামা কবির ও ইউপি সদস্য মিল্লাত হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে ২৩ আগস্ট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি রেকর্ড হলেও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও তাদের ধরছিল না পুলিশ। এর প্রতিবাদে এবং আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।




