খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) : সংগ্রামী এক নারীর নাম পারভীন আক্তার। সে তার প্রতিবন্ধীতাকেও হার মানিয়েছে। পারভীন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ফাকরাবাদ গ্রামের বশির উদ্দিনের কন্যা। জন্মের কিছুদিন পর শিশু পারভীনের এক পা বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। পারভীন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পিতা বশির উদ্দিন ব্যাটালিয়ান আনসার সদস্য। একভাই দু’বোনের মধ্যে পারভীন সবার বড়। ছোটবোন পারুলের বিয়ে হয় ৮ বছর আগে। এসএসসি পরীক্ষার পূর্বেই। ছোটভাই আরিফ পড়ালেখায় তেমন একটা এগোতে পারেনি। পারভীন ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী। ২০০৯ সালে ঝিনাইগাতী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে মহিলা ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হয় পারভীন। পারভীনের এক পা বিকলাঙ্গ থাকলেও তার ছিল প্রচন্ড মনোবল। বাড়ি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে স্কুল ও কলেজ। একটি লাঠিতে এক পায়ে ভর করে প্রতিদিন স্কুল ও কলেজে যাওয়া-আসা করতো পারভীন। ২০১১ সালে এইচএসসি পাশ করে এ বছর সে ডিগ্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পারভীনের মা আছিয়া বেগম বলেন, প্রতিদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পর সংসারের কাজেও তাকে সহযোগীতা করে থাকে তার প্রতিবন্ধী কন্যা পারভীন। প্রচন্ড মনোবল প্রতিবন্ধীতাও দমাতে পারেনি পারভীনকে। পারভীনের স্বপ্ন সে পড়ালেখা শেষ করে শিক্ষক হবে। ইতিমধ্যেই সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা চাকুরীর জন্য আবেদনও শুরু করেছে। প্রতিবন্ধী পারভীনের মনোবল তাকে এ পর্যন্ত এগিয়ে আনলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হবার স্বপ্ন তার পূরণ হবে কি?




