ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ হান্নানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ জ্যুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে।
১৯ মে মঙ্গলবার দুপুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের স্ত্রী ত্রিশালের বৈলর মুন্সিপাড়া গ্রামের রহিমা খাতুন বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। পরে সিনিয়র জ্যুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১নং আমলী আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আহসান হাবিব আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন আইন ১৯৭৩ সালের ৩(২) ধারায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মামলার অপর আসামীরা হলেন-ময়মনসিংহ শহরের ৩নং কলেজ রোড গোলকীবাড়ি এলাকার জামায়াত নেতা মো: ফখরুজ্জামান ও গলগন্ডা এলাকার গোলাম রব্বানী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এম এ হান্নান ময়মনসিংহ জেলা শান্তি কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং মো: ফখরুজ্জামান ও গোলাম রব্বানী আলবদর বাহিনীর সশস্ত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৯ আগষ্ট বিকেলে ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানকে গৌরীপুরের ভাঙ্গনামারি চর থেকে ধরে আনেন। পরে তাকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রপুত্র নদ তীরের টর্চার সেলে প্রকাশ্য দিবালোকে দু’চোখ উপড়ে ফেলে ডান হাত ভেঙ্গে দিয়ে এম এ হান্নান নিজে গুলি করে হত্যা করেন লাশ নদে ফেলে দেন। এরপর আসামীরা তাদের বাড়ীঘর লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
মামলায় বাদী রহিমা খাতুন আরো অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এম এ হান্নানের শহরের নতুন বাজার বাসা ও থানার ঘাট জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে টর্চার সেল তৈরী করে অসংখ্য নিরীহ নারী-পুরুষকে নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ ব্রপুত্র নদে ভাসিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন পর মামলা করার বিষয়ে বাদী রহিমা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, এতোদিন প্রাণভয়ে স্বামীর বিচার চাননি। কিন্তু এখন গণতান্ত্রিক সরকার বলে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন তিনি।




