মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর ঐতিহাসিক কুশুম্বা মসজিদ সাড়ে ৪০০ বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে আজও মানুষের হৃদয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করে বিপুল আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুসলিম স্থাপত্যের অনুপম আর অপূর্ব নিদর্শনে তৈরী এ মসজিদ দেখতে অসংখ্য নারী-পুরুষ প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে আসেন। নওগাঁর মান্দা উপজেলা সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দেিণ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ কুশুম্বা মসজিদ। কুশুম্বা গ্রাম অভ্যন্তরে অবস্থিত বিশাল আয়তনের দিঘীর পশ্চিম পাড়ে ধূসর বর্ণের ঐতিহাসিক কুশম্বা মসজিদ দাঁড়িয়ে রয়েছে শত শত বছর ধরে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, বাংলায় নিযুক্ত আফগান শাসক গিয়াস উদ্দীন বাহাদুর শাহ’র আমলে জনৈক সোলায়মান ১৫৫৮ খিষ্টাব্দে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। সে হিসাবে মসজিদটির বর্তমান বয়স ৪৫৬ বছর। মসজিদটি বাংলা চালা ঘরের মতো উত্তর দেিণ ঈষৎ বক্র। উত্তর দেিণ ৫৮ ফুট লম্বা ও ৪২ ফুট চওড়া। চারদিকের দেয়াল ৬ ফুট পুরু করে তৈরি। দেয়ালের বাইরের অংশে পাথর দিয়ে ঢেকে দেয়া। মসজিদের সম্মুখভাগে রয়েছে ৩টি দরজা। আকারে দুটি বড়, অন্যটি অপোকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মেহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে ৪টি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোণ বিশিষ্ট। ছাদের উপর রয়েছে ৬টি গুম্বুজ। যা ২টি সারিতে তৈরি। দ্বিতীয় সারির গম্বুজগুলো আকৃতির দিক দিয়ে ছোট। ১৮৯৭ সালে ভুমিকম্পে ৩টি গম্বুজ নষ্ট হয়েছিল। প্রতœতত্ব বিভাগ পরে মসজিদটি সংস্কার করে। মসজিদের ভিতরে ২টি পিলার রয়েছে। এ পিলার দু’টি পাথর দিয়ে খুব মজবুত করে তৈরি এবং উত্তর দিকের মেহরাবের সামনে পাথরের পিলারের ওপর তৈরি করা হয়েছিল একটি দোতলা ঘর। এই ঘরটিকে বলা হতো জেনান গ্যালারী বা মহিলাদের নামাজের ঘর। এখানে মহিলারা পৃথক ভাবে নামাজ পড়তেন। মসজিদের ভেতরে পশ্চিমের দেয়ালে রয়েছে ৩টি চমৎকার মেহরাবের ওপর ঝুলন্ত শিকল, ফুল ও লতা পাতার কারুকার্য। এ কারুকার্যগুলো খুবই উন্নত মানের। দণি দিকের মেহরাব ২টি আকারে বড়। উত্তর দিকের মেহরাবটি ছোট। মসজিদের উত্তর-দণি দিকে দুটি করে দরজা ছিল। মসজিদের সম্মুখভাগে রয়েছে খোলা প্রাঙ্গন ও পাথর বসানো সিঁড়ি যা দিঘীতে গিয়ে নেমেছে। কুশুম্বা মসজিদ মুসলিম স্থাপত্যকলার এক অনুপম নিদর্শন। প্রচলিত ৫ টাকা নোটে এ মসজিদটির ছবি রয়েছে।




