হুমায়ুন কবির মৃধা,সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকায় সহায় সম্বলহীন ৯৫ ভাগ বিধবা মা ভিক্ষা করে অন্ন যোগায়। আর যে সকল মায়ের কিছু সম্পত্তি রয়েছে তারা আছেন অনাদরে। সমাজে সন্তানের কাছে এখন বিধবা মায়েরাই বড় ভারী বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর নিকট থেকে এরকম তথ্য পাওয়া গেছে। এমনই এক মা কদভানু (৮০)। স্বামী আফছার আলী মারা গেছেন বিগত ৬ বছর আগে। ২ ছেলে ও ৪ মেয়ের জননী তিনি। প্রতি দিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সলঙ্গা গাঢ়দহ নদীর স্লুইসগেটে বসে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষন করে-প্যাটে খাওয়ার নাইগা কিছু দে বাবা! শনিবার দুপুরে বৈশাখের কাঠ ফাঁটা রোদে অনেক পথচারীরর সুদৃষ্টি পরে আশিতিপর এ বৃদ্ধার প্রতি। অনেকেরই কৌতুহল জাগে কে এই বৃদ্ধা। এমন সময় এ প্রতিবেদক যাচ্ছিলেন ঐ পথ দিয়ে স্থানীয় ডাকবাংলোতে। পথিকেরা বললেন-আগামীকাল রবিবার বিশ্ব মা দিবস। অথচ ৬ সন্তানের জননী রোদে পুরে ভিক্ষা করছেন। বৃদ্ধা কদভানুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান-মানুষটা (তার স্বামী) মইরা যাওয়ার পর বেটারা ভাত দেয়না। বেটার বউ ধইরা মারে। না পাইরা ভিক্ষা কইরা খাই। স্বামীর ভিটা সলঙ্গা থানার সাহেবগঞ্জের ঠকপাড়া গ্রামে। ছেলে আর ছেলের বউয়ের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ঠাই নিয়েছেন মেয়ের বাড়ী মাছিয়াকান্দি গ্রামে। মেয়ের বাড়ীতে থাকার জায়গা মিললেও মেলেনি খাবার। তাই ভিক্ষা করে চলে তার পেট। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তার ভাগ্যে মেলেনি বয়স্ক ভাতা। বিধবা মায়েদের সম্পর্কে খবর জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান-প্রায় ৯৫ ভাগ বিধবা মায়ের সংসার চলে ভিক্ষা করে। এ সমস্ত মায়েদের তুলনায় পরিষদে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা অতি সীমিত। অনুসন্ধান করতে গিয়ে আরো জানা গেছে এলাকার যে সমস্ত বিধবা মায়ের কিছু সহায় সম্পত্তি রয়েছে তাদের সন্তানেরা সম্পত্তির লোভে ভরন পোষন করলেও তাদের নেই তেমন আদর যত্ন। এ ব্যাপারে কথা হয় সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছাঃ মালেকা খাতুনের সাথে। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে বিধবা মায়ের অবস্থা খুবই খারাব। যে মা খেয়ে না খেয়ে সন্তান লালন পালন করেছেন সে মা আজ অনাদরে। মালেকা খাতুন আরো বলেন, মায়ের যত্নের ব্যাপারে সন্তানদের সচেতন করতে জনপ্রতিনিধি ও মসজিদের ইমামসহ সচেতন মহলকে এগিয়ে আসা উচিত। এছাড়া এব্যাপারে কঠোর আইন ও আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকা দরকার। তাহলে সমাজে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বিধবা মা। তবেই স্বার্থক হবে বিশ্ব মা দিবস।




