ads

শনিবার , ৩ অক্টোবর ২০২৬ | ২৫ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

এনআইডি-পাসপোর্টের মতো অনলাইনে করতে হবে বিয়ের নিবন্ধন: আইনমন্ত্রী

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৪:০১ অপরাহ্ণ

অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে বিবাহসংক্রান্ত অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও অননুমোদিত বহুবিবাহ প্রতিরোধ সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই ব্যবস্থায় বৈবাহিক তথ্য সমন্বিত ডেটাবেইসে সংরক্ষিত থাকায় দেশ ও বিদেশ থেকে দ্রুত তথ্য যাচাই করা যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ৩ অক্টোবর শনিবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

Shamol Bangla Ads

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের মানুষের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করাই এ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য। এতে প্রতিবছর কতটি বিবাহ হচ্ছে, বাল্যবিবাহ ঘটছে কি না এবং বিবাহসংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই সহজ হবে।

অনলাইনে নিবন্ধন চালু হলে কোনো ব্যক্তি আগে বিবাহ করেছেন কি না, করলে কতটি বিবাহ করেছেন এবং নতুন বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আরবিট্রেশন কাউন্সিলের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা যাবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

Shamol Bangla Ads

তথ্য গোপন করে বিবাহ, গোপন বিবাহ এবং পরে বিবাহ অস্বীকারের সুযোগও কমবে বলে উল্লেখ করেন মো. আসাদুজ্জামান। নারী বা পুরুষ সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর পূর্ববর্তী বিবাহের তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এতে বহুবিবাহের প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিবন্ধিত বৈবাহিক তথ্য থাকলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে একাধিক ব্যক্তি দাবি করলেও প্রকৃত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। এ ধরনের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার সম্ভাবনাও কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনলাইনে নিবন্ধিত তথ্য দেখতে পারবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজনও কমবে বলে জানান মো. আসাদুজ্জামান।

বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্টসহ অন্যান্য সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান আইনমন্ত্রী। সরকারি তথ্যব্যবস্থাগুলো সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত হলে নাগরিকের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে তিনি বলেন।

‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণটির আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে পাঁচ জেলার ২৭ জন বিবাহ ও তালাক নিবন্ধক বা নিকাহ রেজিস্ট্রার অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন সফটওয়্যার ব্যবহারের পদ্ধতি, নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা এবং তথ্য সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অনলাইনে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রাররা নিজে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার অন্য নিকাহ রেজিস্ট্রারদেরও প্রস্তুত করবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। নিয়মনীতি অনুসরণ করে লটারির মাধ্যমে পদায়ন হলে দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন এবং পদায়ন নিয়ে তদবিরের সুযোগ কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মো. আসাদুজ্জামান। তাঁদের উত্তরসূরিরা যাতে এ পেশায় আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস ও এস এম এরশাদুল আলম, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শামীমা আফরোজ, প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লবসহ আইন ও বিচার বিভাগ এবং ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Need Ads