জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে আমন ধানের ১ একর ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আপন জেঠা ও জেঠাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। ২৬ আগস্ট শনিবার রাতের আঁধারে উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের মানিকচাঁদ পাড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রেজাউল করিম ওই ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

ভূক্তভোগী রেজাউল করিম ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মানিকচাঁদ পাড়া গ্রামে ১ একর জমি মৃত মোহাম্মদ আলী কাছ থেকে ছোট ছেলে হোসেন আলী ক্রয় করেন। এরপর থেকে ওই জমি হোসেন আলী ভোগদখল করে আসছেন। ২০২০ সালে হোসেন আলীর মৃত্যু হয়। ওয়ারিশান সূত্রে জমির মালিক হন তার ছেলে রেজাউল করিম। হোসেন আলীর মৃত্যুর পর এই জমির একাংশ দাবি করেন রেজাউলের জেঠা আবুল হাশেম।
এ নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবুর উপস্থিতিতে শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই আবুল হাশেম, তার ছেলে শফিকুল ইসলাম জোর করে রেজাউলের জমি দখলে নিতে চান। এসময় বাঁধা দিলে রেজাউলকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এমনকি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে ধান লাগনো জমিতে মই দিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। এ নিয়ে রেজাউল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সর্বশেষ গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ওই জমিতে হালচাষ করে ক্ষেত প্রস্তুত করে আমন ধানের চারা রোপন করেন রেজাউল। শনিবার রাতের আঁধারে সেই আবাদি জমিতে ঘাস মরার বিষ প্রয়োগ করে তার এক একর জমির লাগানো আমন ধানের চারা নষ্ট করে ফেলে।

রেজাউলের অভিযোগ, তার জেঠা আবুল হাশেম, জেঠাতো ভাই শফিকুল ইসলাম মিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে তার আমনের চারা মেরে ফেলেছেন। এতে তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখে পড়েছেন।
মানিকচাঁদপাড়া গ্রামের কৃষক ছফর উদ্দিন, দুলাল মিয়া, আহাম্মদ আলী, মকবর আলী, আনছার আলী ও আক্কাস আলীসহ অনেকেই জানান, হোসেন আলীর ছেলে রেজাউল ওই ১ একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। কে বা কারা তার জমিতে বিষ প্রয়োগ করে ধানের চারা নষ্ট করে ফেলেছেন। জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে কিন্ত এই ভাবে ফসল নষ্ট করা তো ঠিক হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল হাশেম বলেন, আমার ছেলে শফিকুল বেশ কয়েকদিন যাবত অসুস্থ ,আমি নিজেও পঙ্গু মানুষ। তাহলে কি ভাবে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করলাম? আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক না।
নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বলেন, প্রায় ৪০/৪৫ বছর যাবত ওই জমিতে হোসেন আলী চাষাবাদ করে আসছেন। তখন কোন সমস্যা ছিলো না। কিন্ত তার মৃত্যুর পর ওই জমি নিয়ে রেজাউলের সাথে তার জেঠার সাথে বিরোধ হয়। বিষয়টি মিমাংসাও করা হয়েছে। কিন্ত বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করা ঠিক হয়নি। এর সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষকের ধান ক্ষেতে কেউ বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করা এটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আইনের আশ্রয় নিলে তিনি উপযুক্ত বিচার পাবেন বলে মনে করি।




