শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজের ৬ দিনেও সন্ধান মেলেনি রুবেল মিয়া (১৪) নামে এক আবাসিক শিক্ষার্থীর। নিখোঁজ রুবেল মিয়া উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের আবুল হাশেমের ছেলে। নিখোঁজের ঘটনায় রুবেলের পিতা হাশেম গত ১১ জুলাই নালিতাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। রুবেল তার এক চাচা ও চাচাতো ভাইসহ উপজেলার রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় প্রায় চার বছর যাবত পড়াশোনা করছে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে গত ৮ জুলাই মাদ্রাসায় আসার পর ১০ জুলাই ভোর থেকে নিখোঁজ রয়েছে রুবেল।

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রুবেল, তাঁর এক চাচাতো ভাই ও চাচাসহ উপজেলার রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র ছিলো৷ গত ৮ জুন বিকেলে রুবেল বাসা থেকে মাসিক বেতন, বোর্ডিং ফি. ও হাত খরচের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ঈদের ছুটি শেষ করে মাদ্রাসায় যায়। পরে গত ৯ জুলাই রাতে রুবেল প্রতিদিনের মতো তার চাচাতো ভাই রবিউলের পাশে শুয়ে পড়েন। তবে পরদিন ভোরে রবিউল ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠে রুবেলকে আর দেখতে পায়নি। পরে ১০ জুলাই সারাদিন পেরিয়ে রাতেও রুবেলের খোঁজ না মেলায় মাদ্রাসার হুজুরের মোবাইলফোনের মাধ্যমে রুবেলের পরিবারের কাছে নিখোঁজের খবরটি জানানো হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্বীয়-স্বজনের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রুবেলের সন্ধান না পেয়ে গত ১১ জুলাই ছেলের সন্ধান চেয়ে নালিতাবাড়ী থানায় সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেন আবুল হাশেম।
রুবেলের মা রুবিয়া খাতুন বিলাপ করে বলেন, ঈদের ছুটি কাটাইয়া আমার পুলাডা মাদ্রাসায় গেলো। আমি নিজেই ছেলেরে গাড়িতে তুইলা দিলাম। মাদ্রাসায় গিয়া আমার পুলা মাত্র দুই রাইত আছিলো। অহন তো কেউ জানেওনা আমার পুলা কই। সব জাইগাই খুঁইজাও তো পাইলাম না। সবার সামনে মাদ্রাসা থাইক্কা আমার বাপধন কই হারাইয়া গেলো? বাবা আপ্নেরা যেমনে পারেন আমার পুলাডারে খুঁইজ্জা আইনা দেন।

রুবেলের পিতা আবুল হাশেম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার ছেলে পড়াশোনায় খুব ভাল। ২২ পারা কোরআন শরীফ শেষ কইরা এখন ২৩ পারা পড়া শুরু করেছে। আবাসিক মাদ্রাসার ভেতর থাইক্কা কি কইরা আমার ছেলে নিখোঁজ হইয়া যায়? সব জায়গায় খুঁইজাও আমি আমার ছেলেরে পাই নাই৷ আমি ছেলের সন্ধান চাই।
জানতে চাইলে মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ ইসমাইল হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করলেও অনেক ছাত্রই অনেক সময় না বলে বাড়িতে চলে যায়। গত ১১ জুলাই সকালে হাজিরা খাতায় নাম ডাকলে রুবেল অনুপস্থিত ছিলো। পরে রাতে আবার হাজিরা ডাকার সময়ও রুবেলকে অনুপস্থিত পেয়ে বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, ওই ঘটনায় ১১ জুলাই নিখোঁজের পিতা থানায় জিডি করেছেন। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি মাদ্রাসার বেতনের জন্য বাসা থেকে আনা টাকা সে মাদ্রাসায় জমা দেয়নি। সেই টাকাগুলো তাঁর কাছেই ছিলো। আর ঘটনার দিন সকালে রুবেল বাস কাউন্টার থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে টিকিট করে ঢাকায় গেছে বলেও আমরা জেনেছি। আশা করছি খুব দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা যাবে।




