পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকার ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ পেয়েছেন। ঢাকাস্থ শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২৩ এপ্রিল রবিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের হাঁসধরা হালিমা আহসান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ওই চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

সমিতির সভাপতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব (রিয়ার অ্যাডমিরাল) খোরশেদ আলম কালা বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন।
ওইসময় জাতীয় সংসদের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির একান্ত সচিব ও সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আশরাফ আলী, ইবনে সিনা হসপিটালের চীফ কার্ডিয়াক সার্জন ও মেডিকেল ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির আহবায়ক ডা. জাকির হোসেন, সদস্য সচিব ডা. শরিফুল ইসলাম, লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিন মেডিকেল ক্যাম্পে শেরপুরসহ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ২৮ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ পেয়ে বেজায় খুশি হন স্থানীয় হতদরিদ্র মানুষ।
চিকিৎসা সেবা নেয়ার পর স্থানীয় রহিমা বেগম বলেন, ‘আমরা টেহার অভাবে বালা ডাক্তার দেহাবার পাইনে। আজ দেহাইলাম। ওষুধও নিলাম। টেহা নাগে নাই। খুব খুশি অইছি।’ আরেক সেবাগ্রহীতা সাহেদা খাতুন বলেন, ‘অনেকদিন দইরে শরিরডা খারাপ। বালা ডাক্তার শ্রীবরদী নাই। আজ আমি বাড়ির কাছে বড় ডাক্তার বিনা টেহায় দেহাইলাম।’ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অবহেলিত এলাকায় বড় বড় ২৮ জন ডাক্তার আইসা বিনামূল্যে চিকিৎসা দিলো, ঔষধ দিলো। এতে আমরা খুব খুশি।’
সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আশরাফ আলী বলেন, ‘আমরা শেরপুরের অবহেলিত মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। আমরা বিনামূল্যের চিকিৎসা সেবা জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাবো।’
সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয়ের নায়ক খোরশেদ আলম কালা বলেন, ‘আমাদের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকার মানুষ অবহেলিত। তাই আমরা আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে এ অঞ্চলের ২৮ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিলাম। আমাদের এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’




