শেরপুরের শ্রীবরদীতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ১৪ বছর পর গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪ (জামালপুর-শেরপুর) এর সদস্যরা। ১৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানার সাতারকুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একইদিন বিকেলে শহরের মাধবপুরস্থ শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই তথ্য জানায় র্যাব।

গ্রেফতার নজরুল ইসলাম (৪২) শ্রীবরদী উপজেলার বাবেলাকোনা এলাকার নইমুদ্দিনের ছেলে ও ২ সন্তানের জনক। একইদিন আসামি নজরুল ইসলামকে সাজা পরোয়ানামূলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, প্রায় ১৬/১৭ বছর আগে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বাবেলাকোনা গ্রামের মৃত আব্বাস উদ্দিনের মেয়ে আজেদা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন একই গ্রামের নজরুল ইসলাম। আজেদা বেগমের বাবার বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় তিনি বাবার বাড়িতেই থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে দুটি সন্তানের জন্ম হয়। তবে অভাব-অনটনের সংসারে তাদের সবসময় ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। ২০০৮ সালের ২৩ মে দুপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে নজরুল তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী আজেদা বেগমকে জোর করে নিজ বাড়ির দিকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে। পরে বাড়ির পাশের একটি ধান ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে দিনে-দুপুরেই স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যায় নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় ওইদিনই আজেদার ভাই সুজন রাজা বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক হয় নজরুল ইসলাম।

ওই মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর আসামি নজরুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক। পরে র্যাব নানা তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানার সাতারকুল রোডস্থ বিসমিল্লাহ মার্কেটের আল বাকের কাঠ বিতানের সামনে থেকে নজরুলকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪’র একটি আভিযানিক দল।
এ ব্যাপারে র্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি পলাতক ছিলেন। তিনি ঢাকায় চায়ের দোকান দিয়ে জীবনযাপন করে আসছিলেন। আমরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিতের পর অভিযান করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




