শেরপুর জেলায় আরও একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেন্টেনিয়াল টিটিসি ও শেরপুর সদর টিটিসিসহ ২৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ওইসময় তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি উপজেলায় ১টি করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।


এ উপলক্ষে শেরপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ রজনীগন্ধায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার। ওই সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুকতাদিরুল আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু বকর সিদ্দিক, পৌর মেয়র গোলাম কিবরিয়া লিটন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন অনুপম ভট্টাচার্য, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহনাজ ফেরদৌস, টিটিসির প্রিন্সিপাল গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ভাতশালা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুন নাহার, প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান, সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, বাসস প্রতিনিধি সঞ্জিব চন্দ বিল্টু ও বিটিভি প্রতিনিধি দেবাশীষ ভট্টাচার্যসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিও কনফারেন্স শেষে জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তার বলেন, টিটিসি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমাদেরকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শেরপুরে দারিদ্রের হার বেশি এবং শিক্ষার হার কম। তাই প্রশিক্ষিত দক্ষ জনগোষ্ঠি বাড়াতে হবে। পরবর্তীতে তাদেরকে বিদেশে পাঠিয়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বাড়াতে হবে। টিটিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সহজেই প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। সবাই সাধারণ শিক্ষার দিকে না ঝুঁকে পড়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সেইসাথে এ শিক্ষায় বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ব করতে করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নিরাপদ অভিবাসন সর্ম্পকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুকতাদিরুল ইসলাম, শেরপুর সদরে প্রতিষ্ঠিত টিটিসি সর্ম্পকে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান ও টিটিসির প্রিন্সিপাল গিয়াস উদ্দিন আহমেদ কথা বলেন।
পরে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউপির কানাসাখোলা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত সদর টিটিসির ভবন পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, ২০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত বিভাগের আওতায় শেরপুর সদর টিটিসির ভবন, ৬ তলা ভিত বিশিষ্ট ৪ তলা একাডেমিক ভবন, ৩ তলা ডরমিটরি ভবন ও ৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ভবনটিতে লাইব্রেরি, সম্মেলন কক্ষ, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের কক্ষসহ মানসম্মত টয়লেট রয়েছে।
অন্যদিকে ওই টিটিসির মাধ্যমে ইলেক্টিক্যাল, আইটি সাপোর্ট টেকনেশিয়ান, গার্মেন্টস, ওয়েল্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন, অটো মেকানিকস, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিংসহ ৬টি ট্রেডে প্রতি বছর ১ হাজার প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে।
সদর টিটিসি’র কয়েক বছর আগে নকলা উপজেলার গণপদ্দী এলাকায় শেরপুর টিটিসি নামে জেলা পর্যায়ের টিটিসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।




