শেরপুরের শ্রীবরদীতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় ষাড় গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের দষ্টিপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে স্থানীয় মাঠে এই গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে ঢল নামে দর্শকের।

ভেলুয়া দষ্টিপাড়া ষাড় গরু দৌড় প্রতিযোগিতা কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, প্রায় দুই যুগ যাবত এই গ্রামে ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় ষাড় গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এটি এলাকার খুবই জনপ্রিয় খেলা। সব শ্রেণী পেশার লোক এই খেলা দেখতে আসে। এই খেলার মাধ্যমে অনেকে ষাড় গরু লালন পালনে আগ্রহী হয়ে ওঠে। গত দুই বছর করোনা ভাইরাসের কারণে এই প্রতিযোগিতা বন্ধ ছিল। এবার কয়েক রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ গ্রহণ করে শতাধিক ষাড় গরু।
প্রত্যেক টিমে অংশ নেয় চারটি গরু। এর জন্য একটা মই আর দুই জন সওয়ার বা খেলোয়াড় । প্রতি দৌড়ে তিনটি টিমে অংশ নেয় ১২ টি গরু। রেফারির বাঁশি ফু’ দিলেই দুইশ মিটার দৌড়। চারপাশে দর্শক।
প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারীদের অনেকে জানান, তারা বাপ দাদার আমল থেকে গরুর দৌড় প্রতিযোগিতায় নিজেদের নিয়ে অংশ গ্রহণ করে আসছে। এতে এলাকায় তাদের পরিচিতি ঘটে। প্রতিযোগিতায় প্রথম বিজয়ী চন্দনপুরের হাবু বেপারি বলেন, আমার দাদাও গরু নিয়ে মই দৌড়ে যাইতো। বাবাও খেলতো। অহন আমি যাই। আমি ৪ টি ষাড় গরু নিয়ে মই দৌড়ে আইছি। পরথম হওয়াতে আমি খুশি। আমার যারা আছে তারাও খুশি। তিনি জানান, এডা আমগোর সখ। তাই এই ষাড় গুলো আমরা খুব যত্ন করি। ষাড় গরু

দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজকরা জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় এ দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। এতে নতুন প্রজন্মের শিশুরা দেখে অনেক আনন্দ পায়। দৃষ্টিপাড়া গরু দৌড় প্রতিযোগিতার সভাপতি ও ভেলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন, এখানে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম ও বিশেষ অতিথি পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ আলী লাল ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দশটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দরাসহ কয়েক হাজার দর্শকের সমাগম ঘটেছে। গ্রামাঞ্চলের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা চাই যেন আগামীতে আরো ব্যাপক পরিসরে আয়োজন করা যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা এই অঞ্চলের ব্যাপক জনপ্রিয়। সব বয়সের লোক এই প্রতিযোগিতা দেখতে আসে। প্রতি বছর বিভিন্ন ইউনিয়নে আয়োজন করার জন্য প্রশাসনিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে। যাতে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যটি আরো ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে ।




