‘জ্বর অইয়া তিন দিন অয় হাসপাতালে ভর্তি অইছি, অহনও ভালা অইতাছে না। পোলাপান লয়ে মেলা কষ্টে আছি।’ কথাগুলো বলছেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে জ্বরে আক্রান্ত গৃহবধূ সাবিনা খাতুন। তিনি বলেন, কয়দিন আগে আমার স্বামীর জ্বর অয়। পরে পোলাডার জ্বর। অহন আমার জ্বর অইছে। ডাক্তার কইছে, আমার টাইফয়েড। শরীর ব্যাথা করে। দুর্বল অইতাছে। মাথা ঘুরায়। তিনি জানান, তার বাড়ি উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের চৌরাস্তা বাজার এলাকার বাসিন্দা তিনি। তার বাড়ির প্রায় সবাই জ্বরে আক্রান্ত । একি কথা শোনান পাশে বেডে ভর্তি রোগী রহিমা খাতুন। তিনি ডায়রিযা আক্রান্ত হয়ে দুইদিন যাবত ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন,গরমে আমগোরে বাড়ির সবার জ্বর। পরে পাতলা পায়খানা অইতাছে। তিনি জানান, তার বাড়ি সাতনি শ্রীবরদী। তিনি বলেন, গরমে পোলাপানরা অসুখে ভোগছে। তার মতো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকে। প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত রোগী ভর্তি জ্বর ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরো বেশি। এমন কোনো বাড়ি নেই যে একজন জ্বরে আক্রান্ত হয়নি। মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

জানা যায়, শ্রীবরদীতে কয়েকদিনের টানা তীব্র গরমে অতীষ্ট হয়ে উঠেছে বিভিন্ন এলাকার জনজীবন। তাপদাহের তীব্রতায় উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বেড়েছে জ্বর ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগ। প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এতে রোগীর চাপ বেড়েছে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এছাড়াও গুরুতর তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ভোগান্তি বেড়েছে রোগীদের।
মঙ্গলবার শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেখা যায় আসন সংখ্যার চেয়েও বেশি রোগী ভর্তির সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রেকর্ড সংখ্যক রোগী। এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ।

এ ব্যাপারে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৈয়দা তানজিনা আফরিন ইভা বলেন, তীব্র গরমের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন উপজেলার মানুষ। যে কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ভর্তি রোগীর পাশাপাশি গত কয়েকদিনে আউটডোরে কয়েকশ মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, প্রাপ্ত বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন, শিশুদের নিয়মিত গোসল করাতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রোদে খেলাধূলা করা যাবে না। এসময় শিশুদের পাতলা কাপড় পরাতে হবে।




