গত ৩ দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর পানি বেড়ে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ৯ জুন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার সদর বাজার, উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়।

এদিকে মহারশি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর ইউনিয়নের অন্তত ৫ গ্রাম, সোমেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানশাইল ইউনিয়নের আরও ৫ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঝিনাইগাতী বাজারের ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন, আমি এ বাজারে অনেকদিন থেকে ব্যবসা করছি। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল এলেই মহারশি নদীর পাড় ভেঙে এ বাজারে পানি ঢোকে। এতে আমাদের বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়। আমরা মহারশি নদীতে একটি শক্ত বাধের দাবি করে আসলেও এটি আজও বাস্তবায়িত হয়নি। যতোদিন বাধ না হবে, ততোদিন আমাদের এরকম ক্ষয়-ক্ষতি হতেই থাকবে। সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, সকালে ওঠেই দেখি বাড়ির ভেতর পানি ঢুকতেছে। চুলায় পানি ওঠছে, তাই রান্না-বান্নাও বন্ধ। এখন চিড়া-মুড়ি খেয়ে আছি। আর একটু পানি ওঠলে ঘরের মধ্যে ওঠে পড়বে।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য জাহিদুল হক মনির বলেন, মহারশি নদীর পানি বেড়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝিনাইগাতী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ওঠতে শুরু করেছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা বারবার মহারশী নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি করে আসছি। কিন্তু তা হচ্ছে না। এতে আমাদের জনসাধারণের খুবই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি আসতে শুরু করেছে। উপজেলা পরিষদে পানি উঠায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।




