সম্মেলনের ১৬ দিন পরও ঘোষণা হয়নি সভাপতি-সম্পাদকের নাম
শেরপুর ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দীর্ঘ ১৬ দিন পরও ঘোষণা করা হয়নি কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম। এ নিয়ে বিবদমান দুপক্ষের পদপ্রত্যাশী নেতাদের দৌড় এখন রূপ নিয়েছে রীতিমতো কাদা ছুড়াছুড়িতে। কেবল তাই নয়, একজনকে ঘায়েল করতে নগ্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের প্রতিযোগিতায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা। সহসাই তা রূপ নিতে পারে সংঘর্ষ ও হানাহানিতে।

জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর পর গত ৯ মে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুদফায় নির্বাচিত সদ্য সাবেক সভাপতি, উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম সভাপতি ও সদ্য সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি বিবদমান অপর গ্রুপ থেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হন। এছাড়া সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম আমিরুজ্জামান লেবুও স্বীয় পদে বহাল থাকতে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। ওই অবস্থায় আলাপ-আলোচনার পরও কোন সমঝোতা না হওয়ায় নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা না করেই দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়। তবে খুব দ্রুতই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে পরার্মশ সাপেক্ষে কমিটি ঘোষণার বিষয়টি জানিয়ে দেন নেতারা। কিন্তু কেন্দ্রে ও জেলায় একাধিক দফায় বৈঠক হলেও এখনও ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি নয়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম।
এদিকে কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী নেতাদের লবিং-তদবিরের দৌড় শুরু হয়ে যায়। এক পর্যায়ে একে অপরকে ঘায়েল করতে তা গড়ায় রীতিমতো কাদা ছুড়াছুড়ি ও নগ্ন বিষোদগারে। সম্প্রতি সদ্য সাবেক সভাপতি এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইমকে পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করতে তার বিরুদ্ধে একটি ভুইফোঁড় অনলাইন পোর্টালে পরপর ৪টি বিশেষ প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রাজাকারপুত্র, ছাত্রলীগ নেতা হত্যাকারী ও ফ্রিডম পার্টির সাথে জড়িত’ থাকার তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে গত সোমবার শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাইম বিষয়গুলো দৃঢ়তার সাথে অস্বীকার করে এবং কারো নাম উল্লেখ না করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের মিথ্যা, সাজানো ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারণা তথা তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে ২৫ মে বুধবার দুপুরে শেরপুর শহরের মাধবপুরস্থ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের পক্ষে’ এক সংবাদ সম্মেলন করেন দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তফা। ওইসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইমের পরিবার স্বাধীনতাবিরোধী। তিনি ১৯৮৮ সালে ছাত্রলীগ নেতা আশীষ দত্ত ভোলা হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়া নাইমকে ‘ছাত্রলীগ নেতা হত্যাকারী ও ফ্রিডম পার্টির নেতা’ উল্লেখ করে আজীবনের জন্য দল থেকে তার বহিস্কারের দাবি জানান গোলাম মোস্তফা।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিউদ্দিন মোল্লা বাবুল, সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক দুলাল মিয়া, গৌরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তমির উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন, দলের এবারের সম্মেলনেও আমি সভাপতি পদে জোরালো প্রার্থী হওয়ায় এবং আমার অবস্থান মজবুত আঁচ করতে পেরে আমাকে বিতর্কিত করতে দল থেকে ছিটকে পড়া বিএনপি-জামায়াতঘেঁষা একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিরুদ্ধে ওইসব অপপ্রচারণা চালাচ্ছে। তার দাবি, তিনি ওইসব অপপ্রচারণায় কারও নাম উল্লেখ না করে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলকে দায়ী করলেও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বনামে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এটা পরিস্কার করেছেন যে, তারাই এর সাথে জড়িত। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে ওইসব অপপ্রচারণার বিষয়ে ইতোমধ্যে তিনি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও জানান।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক এমপি ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পালের বক্তব্য জানার চেষ্টা করে তারা বিদেশে থাকায় জানা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা পদপ্রত্যাশী নেতাদের তথ্যাদি জেনেশুনেই সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করবেন। তারা কারও বিষয়ে জানেন না- এমনটা ভাবার কারণ নেই। তাই নাম ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত পদপ্রত্যাশী ও সংশ্লিষ্টদের কোনরকম কাদা ছুড়াছুড়িতে লিপ্ত না থেকে ধৈর্য্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা উচিত।




