সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম দিকপাল সংবাদ সম্পাদক প্রয়াত বজলুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ১৪তম আজ। ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর স্বামী। সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক লাভ করেন বজলুর রহমান।

বজলুর রহমান তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার চরনিয়ামত গ্রামের আব্দুর রহমান মৌলভীর ঘর আলো করে ১৯৪১ সালের ৩ আগষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করার পরে নকলা উপজেলার গণপদ্দি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্টিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উর্ত্তীণ হন। পরে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে ও বরিশালের বজ্রমোহন কলেজে পড়াশোনা করেন। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বজলুর রহমান সাংবাদিকতায় স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করার পর ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সভাপতি ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে কচি-কাঁচাদের শিশু সংগঠন খেলাঘর নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। তার অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশের ৩০টি জেলায় খেলাঘর নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর ৫৮ সালের শিক্ষা আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ৬২’র সংবিধান, ৬৬’র ৬দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুথান, ৭০’র সাধারণ নির্বাচন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।
প্রথিতযশা সাংবাদিক বজলুর রহমান তাঁর লেখায় সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে দেশবিরোধীর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি ছিলেন সংবাদের এক সাহসী কলম সৈনিক। বজলুর রহমান মুক্তিযোদ্ধের পক্ষে লেখালেখি করে পরামর্শমূলক লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তিনি সংবাদে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। ৯৬ এর পরে পূর্ণাঙ্গ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র একতার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর সম্পাদনায় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশিত হতো।
রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখা বজলুর রহমান ২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার সময় পুরান ঢাকার ওয়ারলেস গেইটে সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সরকারি বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি ২৬ ফেব্রুয়ারি কার্ডিয়াক হাসপাতালে বিশেষ কেবিনে চিকিৎসাধীন অবস্থা মারা যান।নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।




