চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ ইউনিয়নের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ফরিদুজ্জামান খান। ২৬ ডিসেম্বর রবিবার রাতে উপজেলা নির্বাচন অফিসের বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল এবং সোমবার দুপুরে প্রাপ্ত সকল ইউনিয়নের ফলাফল শীট পর্যালোচনায় ওই তথ্য পাওয়া যায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শ্রীবরদী সদর ইউপিতে আনারস প্রতীক নিয়ে ফরিদুজ্জামান ৫ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন শাহিন পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৭৩ ভোট। এতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ২ হাজার ১৫৩ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ফরিদুজ্জামান।
এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৮২ ভোটের ব্যবধানে গোসাইপুর ইউপির নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহজামাল আশিক এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ৭২৮ ভোটের ব্যবধানে কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ খান নুন জয়ী হয়েছেন।
জানা যায়, ফরিদুজ্জামান স্থানীয় মামদামারী এলাকার প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা নওয়াব আলীর পুত্র এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক সোলাইমান খান মজনুর ছোট ভাই। স্নাতক (বিএসসি) পাশ ফরিদ স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া তিনি এলাকায় একজন সৌখিন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজ সেবক হিসেবে ব্যাপক সু-পরিচিত। পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি সততা ও নিষ্ঠার কারণে এলাকায় তার রয়েছে সুখ্যাতি। দীর্ঘদিন যাবত তিনি ইউপি নির্বাচন করার লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছিলেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবেও ছিলেন ব্যাপক তৎপর। কিন্তু শেষ পর্যায়ে আগাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে স্বাক্ষর নেওয়ার ফাঁদে পা না দিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মাঠে নামেন। নিজ এলাকাসহ অন্যান্য এলাকাতেও শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের পাশাপাশি সাধারণ লোকজন তার পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করেন। নানা হুমকি-ধামকির পরও প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আসে তার কাঙ্খিত বিজয়। এতে বেজায় খুশি এলাকার লোকজনসহ বিভিন্ন মহল।

এদিকে সিঙ্গাবরুনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফখরুজ্জামান কালু ৫ হাজার ৩০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু রায়হান বাবুল ৫ হাজার ২ ভোট পেয়েছেন। রাণীশিমুল ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ সোহাগ ৪ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ রানা ৪ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়েছেন।
কাকিলাকুড়া ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হামিদুল্লাহ তালুকদার ৪ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গর আলম ৪ হাজার ৫০৭ ভোট পেয়েছেন। তাতীহাটি ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ ২ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিম ঢোল প্রতীকে ২ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়েছেন।
গোসাইপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহজামাল ইসলাম আশিক ৫ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা বেগম ৪ হাজার ৬২ ভোট পেয়েছেন। ভেলুয়া ইউনিয়নে অটোরিক্সা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল করিম ৫ হাজার ৩৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান চশমা প্রতীকে ৪ হাজার ৯৩৪ ভোট পেয়েছেন।
কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নে মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ খান নুন ৪ হাজার ৪৬০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবর রহমান হেলাল চশমা প্রতীকে ৩ হাজার ৭৩২ ভোট পেয়েছেন। আর গড়জরিপা ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল জলিল ৩ হাজার ১৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল মিয়া ঘোড়া প্রতীকে ৩ হাজার ৩৮ ভোট পেয়েছেন।




