নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সমিতির বিরোধকে কেন্দ্র করে চিথোলিয়া গ্রামের সমিতির কয়েকজন নিরীহ সদস্যের বাড়ি-ঘরে অতর্কিত হামলা ভাংচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ওইসময় অস্ত্রধারী হামলাকারীদের আঘাতে দুই নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। ওই ঘটনায় ৭ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ওই এলাকায় থমথমে ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। আরো বড় ধরনের হামলার আশংকা করছেন নিরীহ এলাকাবাসী । ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের চিথুলিয়া গ্রামে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত চিথোলিয়া সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সমিতির অবৈধ কমিটি দ্বারা গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক কমিটির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। মামলা প্রত্যাহার করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ খুন জখমসহ নানান ধরনের হুমকি প্রদান করে আসছিল।
এসব হুমকীর ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে গত শনিবার জানানো হয়। এরপরেও ১৪ নভেম্বর রবিবার সকালে সমিতির তত্ত্বাবধায়ক কমিটির গোন্ডারা অতর্কিতভাবে মামলার বাদি পক্ষের নিরীহ নারী-শিশুসহ ব্যয়োজেষ্ঠ্য মানুষের প্রায় অর্ধ শতাধিক বাড়ি-ঘরে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করা করে। এতে নগদ আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা এবং ৫ থেকে ৬ ভরি স্বর্নলংকার লুট করে নিয়ে যায় । হামলাকারীদের আঘাতে ১০ /১২ জন আহত হয়। আহতরা কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তন্মধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহ নেওয়াজ জানান, চিথোলিয়া সমাজকল্যাণ উন্নয়ন সমিতির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষে ১০/১২ জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় চিথোলিয়া গ্রামের হাদিউর রাহমন (৫৫), চানফর (৩৫), আলমগীর (২৫), আব্দুল ওয়াহাব (৫০), নুরুজ্জামান (২৮), আব্দুল লতিফ (৪৮), শান্তু মিয়া (৬৫)সহ ৭জনকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছেন। তিনি আরো জানান, এখনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে মামলা গ্রহণসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।




