শেরপুরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ভবনের সুইচ কন্ট্রোলরুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২২ আগস্ট রবিবার ভোরে ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত সুইচ কন্ট্রোলরুমে ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস ও বিটিসিএল কর্মকর্তারা। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সুইচরুম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জেলায় টেলিফোন সেবা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিটিসিএল ময়মনসিংহের মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ, জামালপুর-শেরপুর জোনের উপ-মহাব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

জানা যায়, রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শহরের শহীদ বুলবুল সড়কস্থ বিটিসিএল অফিসের নিচতলায় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা দ্বিতীয় তলায় সুইচ কন্ট্রোলরুমে আগুনের শিখা দেখতে পান। পরে শেরপুর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘন্টাখানেক চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে কন্ট্রোলরুমে থাকা ২টি এসি, ১ হাজার ইউনিট প্রকল্পের ওডিএফ মেশিনসহ আনুমানিক প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। আগুনে সুইচ কন্ট্রোলরুম বিকল হয়ে যাওয়ায় জেলার পাঁচ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী বকশীগঞ্জ, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার টেলিফোন সেবা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ওই কন্ট্রোল রুম থেকে সংযোগ যাওয়া ১৪টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সেবাও বন্ধ রয়েছে।
বিটিসিএল শেরপুরের সহকারী ব্যবস্থাপক (টেলিকম) ইসমাইল হোসেন জানান, আমাদের আরও একটি উন্নত প্রযুক্তির নতুন সুইচ কন্ট্রোল রুম চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। সেটির মাধ্যমে টেলিফোন সেবা চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিটিসিএলের জামালপুর-শেরপুর জোনের উপমহাব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো যাবে। আমরা আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও সার্বিক পরিস্থিতি জানাচ্ছি। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার সুবল চন্দ্র দেবনাথ জানান, ভোর সাড়ে চারটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।




