শেরপুরের নালিতাবাড়ীর শাহাদুল ইসলাম হত্যা মামলায় ১১ আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ১৮ আগস্ট বুধবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিন ফারজানা উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ওই আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরা হচ্ছে নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় সাতানিপাড়া এলাকার তমিজ উদ্দিন তমুর ছেলে আব্দুল গনি (৫৫), আব্দুল গনির ছেলে রাজু মিয়া (৩০), কাজল মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া (২২), আবু বক্করের ছেলে আরমান আলী (১৯), আব্দুল ওহাবের ছেলে শাহিন মিয়া (২২), সুজন মিয়া (২৪) ও শফিকুল ইসলাম (২৮) এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া এলাকার আন্তাজ আলীর ছেলে সাগর আলী (২২) ও সাজু মিয়া (২০), আব্দুল মুন্নাফের ছেলে হারুন মিয়া (৪০) ও আজিজুল হকের ছেলে আমিরুল ইসলাম (২৫)। কোর্ট উপ-পরিদর্শক লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ওই মামলার এজাহারনামীয় প্রধান ৩ আসামি স্থানীয় মৃত রমিজ উদ্দিনের ছেলে মনিরুজ্জামান নয়ন (৩৮), স্বপন মিয়া (৪৫) ও কাজল মিয়া (৩৬) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। এছাড়া পরবর্তীতে আদালতে নালিশী মামলায় দেওয়া মেহেদী হাসান জীবন (২১), আবু বক্কর (৫৮), রফিকুল ইসলাম (৪৫) ও জহুরুল ইসলাম (৩০)সহ আরও ৬ জনও পলাতক রয়েছে।

জানা যায়, গত ২৩ মে দুপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার পশ্চিম কলসপাড় সাতানিপাড়া এলাকায় মনিরুজ্জামান নয়নের সাথে স্থানীয় রফিকুল ইসলামের বিরোধের জের ধরে নয়ন তার লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় রফিকুলের ছোটভাই শাহাদুল ইসলাম (২৫) ও জ্যাঠাত ভাই নজরুল (২৮) গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে শাহাদুল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় রফিকুলের চাচা মো. চাঁন মিয়া (৫৫) বাদী হয়ে ২৫ মে মো. মনিরুজ্জামান নয়ন (৩৮)সহ ১৪ জনকে স্বনামে ও আরও অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জনকে আসামি করে নালিতাবাড়ী থানায় মারপিট ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। পরে ওই মামলায় এজাহারনামীয় ১১ জন (৪-১৪) আসামি নিম্ন আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পায়। অন্যদিকে ৪ জুন জখমী শাহাদুল ইসলাম চিকিৎসাধীন মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। ওই অবস্থায় ১৮ আগস্ট সংবাদদাতা বাদীপক্ষে অন্তবর্তী জামিনে থাকা আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন দাখিল করা হয়।




