শেরপুরে গত একমাসে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ দাঁড়িয়েছে। এতে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৮১ জনের। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন একজন। ১২ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য বুলেটিন থেকে ওইসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের বুলেটিন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের ৫ এপ্রিল জেলায় প্রথম ২ নারীর করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গত ১১ জুলাই পর্যন্ত শেরপুর জেলায় করোনায় আক্রান্ত ছিলেন ২ হাজার ২১৯ জন ও মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪০। আর ১১ আগস্ট বুধবার রাত পর্যন্ত করোনা মোট আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ১০৩ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে জেলায় করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ওই সময়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৯৮ জন। জেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছেন ৭২৪ জন। এর মধ্যে জেলা সদর হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৪২ জন রোগী ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছেন ৩০ জন রোগী। মোট শনাক্ত ৪ হাজার ১০৩ জনের মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় ২ হাজার ৩৪৪, নকলায় ৪৩৭, নালিতাবাড়ীতে ৫৪৫, শ্রীবরদীতে ৪১৩ ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৩৬৪ জন রয়েছেন।
এদিকে বুধবার নতুন করে জেলায় ৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৬৬। নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১২ জন, শ্রীবরদীতে ২ জন, ঝিনাইগাতীতে ৮ জন, নালিতাবাড়ীতে ৬ জন ও নকলা উপজেলায় ৪ জন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, শেরপুরে সাধারণ মানুষের উদাসিনতার কারণেই করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। করোনার নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধে মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে টিকাও গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরও জানান, জেলায় এ পর্যন্ত করোনার প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬১১ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৭ হাজার ১১০ জন।




