শেরপুরের শ্রীবরদীতে খাল খনন ও বালু উত্তোলনে নীতিমালা অনুসরণের তাগিদ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ। ২ আগস্ট সোমবার বিকেলে তিনি উপজেলার কুড়িকাহনিয়া এলাকায় খাল খনন কাজ পরিদর্শন ও সীমান্তবর্তী রানীশিমুল ইউনিয়নে সোমেশ্বরী নদীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয় ঠিকাদার ও ইজারাদারসহ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি ওই তাগিদ আরোপ করেন তিনি।

এদিন বিকেলে জেলা প্রশাসক কুড়িকাহনীয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিএডিসির উদ্যোগে কুড়িকাহনীয়া-কালিদহ সাগর ২ কিলোমিটার খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। ওইসময় খাল খনন কাজ সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদানসহ খননকাজ তদারকি করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি। খননকাজ পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার, বিএডিসি জামালপুর রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু আহমেদ মাহমুদুল হাসান নিপু, বিএডিসি শেরপুর জোনের সহকারি প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) মেহেদী আল বাকী, বিএডিসি শ্রীবরদী কার্যালয়ের উপ-সহকারি প্রকৌশলী (ক্ষুদ্র সেচ) আলতাফ হোসেন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম প্রমুখ।
জানা যায়, বিএডিসির আওতায় ১৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ৯৬০ টাকা ব্যয়ে কুড়িকাহনীয়া-কালিদহ সাগর ২ কিলোমিটার খালের খনন কাজ শুরু করেন ময়মনসিংহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলমগীর এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয়রা বলছেন, খাল খনন করায় একদিকে যেমন পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা হবে, অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি থেকে চাষাবাদে লাভবান হবেন স্থানীয় কৃষকরা। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ওই খননকাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠায় পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক। খনন কাজ পরিদর্শন শেষে কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ। ওইসময় ভূমি অফিসের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। পরে কুড়িকাহনীয়া সাউথ কুরুয়া উচ্চ বিদ্যালয় অফিস কক্ষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে খাল খনন পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী রানীশিমুল ইউনিয়নে সোমেশ্বরী নদীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। ওইসময় তিনি ভারত থেকে বয়ে আসা সোমেশ্বরী নদী থেকে যত্রতত্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, সরকার নির্ধারিত বালুমহাল না থাকার পরও দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় বালুদস্যুরা সোমেশ্বরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে যত্রতত্র ডেজার মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে বালিজুরি বাজার ও বালিজুরি-তাওয়াকুচা বড় সেতুটি। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে নদীর দুপাড়ে বসবাসরত বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে গণমাধ্যমে একাধিকবার খবর প্রকাশিত হলেও বালু উত্তোলন বন্ধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ বলেন, আমাদের পরিবেশ রক্ষায় নদী পাড়ের বাড়িঘর ও গাছপালা বাচাঁতে হবে। আর তাই নদীর গভীর খনন করা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোন সুযোগ দেয়া হবে না। এছাড়া সরকারি ডাকে যারা বালুমহাল ইজারা গ্রহণ করবে, তাদেরকেও শর্ত মেনে বালু উত্তোলন করতে হবে বলেও জানান তিনি।




